Tuesday, April 16, 2024

Temple Tell: জীর্ণ মন্দিরের জার্ণাল- ১৪৩ ।। চিন্ময় দাশ

- Advertisement -spot_imgspot_img

জীর্ণ মন্দিরের জার্ণাল
চিন্ময় দাশ
রাধাগোবিন্দ মন্দির, গোবিন্দনগর (দাশপুর)খ্যাতনামা বৈষ্ণব গুরু প্রাণগোবিন্দ দেবগোস্বামী এসেছিলেন ওডিশার যাজপুর এলাকা থেকে । চেতুয়া পরগণার গোবিন্দনগর গ্রামে থিতু হয়ে, গুরুগিরিই করতেন তিনি। তাঁর বশধরগণও সেই পথের পথিক ছিলেন। আজও বহু দূর-দূরান্তেও তাঁদের শিষ্যকূল ছড়িয়ে আছে।
অনেক শিষ্য ছিল এই বংশের নন্দনন্দন দেবগোস্বামীরও। মণ্ডলঘাট পরগণা (বর্তমান পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাট থানা)র রাইন-গোপালনগর এলাকার কাঞ্চনা গ্রামে তাঁর এক শিষ্য ছিলেন বৃন্দাবন চন্দ্র মান্না। বাংলা ১১৮৮ সনে (ইং ১৭৮১ সাল) গুরুদেবকে ‘প্রণামী’ হিসাবে এই মন্দিরটি নির্মাণ করে দিয়েছিলেন বৃন্দাবন। মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন সেকালের অন্যতম বিখ্যাত সূত্রধর সাফল্যরাম মিস্ত্রী ।
রাধারমণ এবং রাধাগোবিন্দ নামিত রাধাকৃষ্ণের দুটি যুগলমূর্তি এখানে পূজিত হন।
সম্পূর্ণ বর্গাকার পূর্বমুখী ইটের মন্দিরটি পঞ্চ-রত্ন রীতিতে নির্মিত। সামনে তিন-খিলানের অলিন্দ। গর্ভগৃহটি এক-দ্বারী। তার ভিতরে আবার ‘গম্ভীরাঘর’ নামের অতিরিক্ত একটি কক্ষ আছে। ভেতরে একটি সিঁড়িও দেখা যায়। সৌধটির মাথায় গড়ানো চালা ছাউনি। সেকারণে, কার্ণিশগুলির বঙ্কিমভাবটি বড় মনোরম। মাথায় পাঁচটি রত্নে রথ-বিন্যাস করা।
ভোগশালা, বাংলা ১৩১৬ সালে নির্মিত ঝুলন মন্দির, গরুড়স্তম্ভ ইত্যাদিও আছে এই মন্দিরস্থলীতে। পঞ্চরথ দেউল রীতির তুলসীমঞ্চটি বেশ দর্শনীয়।
মন্দিরটির অহঙ্কার এর টেরাকোটা ফলক। সামনের দেওয়ালটিকে স্তম্ভমূল থেকে কার্ণিশের তলা পর্যন্ত ফলকে মুড়ে দেওয়া হয়েছে। কতো মোটিফেরই না সমাবেশ হয়েছে সেখানে! বন্দুকধারী সাহেবের শিকার, অশ্বারোহী সৈনিকের যুদ্ধ, লোকলস্কর বেষ্টিত সাম্পান আরোহী জমিদার, দুটি হার্মাদ রণতরী, ইউরোপিয়ান সাহেবের তামাকুসেবন ইত্যাদি।
কার্ণিশের তলা বরাবর একসারি আর দু’দিকের কোণাচের গায়ে দুটি সারি—ছোট ছোট খোপে অজস্র ফলক। তার ভিতর যোদ্ধামূর্তি আর আটটি বড় আকারের নর্তকী মূর্তি চোখে পড়বার মতো।
মুখ্য ফলকগুলি আছে তিনটি দ্বারপথের মাথার উপরে, তিনটি বড় প্রস্থে। বেশ কয়েকটি প্যানেল। বামদিকে দশভূজা দুর্গা, রামচন্দ্রের স্বর্ণমৃগ বধ ইত্যাদি। মাঝখানে রামায়ণ কাহিনী থেকে লক্ষ্মণের শক্তিশেল, রাম-রাবণের যুদ্ধ ইত্যাদি। আর, দক্ষিণে কৃষ্ণলীলার দৃশ্যপট।
দারু-তক্ষণ কাজের উৎকৃষ্ট নমুনা গর্ভগৃহের কাঠের দরজাটি। মহাদেব, গণেশ, দশাবতার, শীতলা, মনসা ইত্যাদি দেব-দেবীর মূর্তি রূপায়িত হয়েছে বাটালির ডগায়।
সাক্ষাৎকারঃ সর্বশ্রী কার্তিক গোস্বামী, নিমাই গোস্বামী, সতীশ চন্দ্র গোস্বামী, গোপাল গোস্বামী, সন্দীপ গোস্বামী—গোবিন্দনগর।
পথ-নির্দেশঃ বাস কিংবা ট্রেনযোগে হাওড়া-খড়গপুর রুটের পাঁশকুড়া। সেখান থেকে ঘাটালমুখী পথে গৌরা পৌঁছে, সামান্য পশ্চিমে গোবিন্দনগর। খড়গপুর-আদ্রা রুটের চন্দ্রকোণা রোড স্টেশন থেকে ঘাটাল হয়েও গৌরা পৌঁছানো যাবে।

- Advertisement -
Latest news
Related news