Saturday, May 25, 2024

SSC CBI: ফেল করেও শিক্ষক, পাশ করে ওয়েটিং লিস্টে! এসএসসি তদন্তে CBI, কী হবে প্রাক্তন মন্ত্রীর মেয়ের

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: যতদিন যাচ্ছে ততই নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির পাঁকে জড়িয়ে পড়ছে রাজ্যের সরকার। এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে পাশ করতেই পারেনি এমন ব্যক্তিরা শিক্ষকতা করছেন স্কুলে আর পরীক্ষায় পাশ করে চাকরি প্রার্থীর ঠাঁই হয়েছে ওয়েটিং লিস্টে। এই ঘটনা নজরে আসার পরই স্কুল সার্ভিসের নবম-দশম শ্রেণীর নিয়োগে CBI তদন্তের নির্দেশ দিল আদালত!গ্রুপ সি – গ্রুপ ডির পর এবার রাজ্যে নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগেও সিবিআই অনুসন্ধানের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার SLST নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে এই নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। আগামী ২৮ মার্চের মধ্যে অনুসন্ধান রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

দেখা যাচ্ছে ২০১৬ সালে হওয়া শেষ SLST পরীক্ষার মেধাতালিকায় নাম থাকা স্বত্বেও জনৈক আজাদ আলি মির্জা ও আরও এক ব্যক্তি নিয়োগ পান। ওই ২ নিয়োগকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে দায়ের হয় মামলা। মামলার শুনানিকে SSC-র চেয়ারম্যানের কাছে হলফনামা তলব করে আদালত। হলফনামায় SSC-র চেয়ারম্যান যে মেধাতালিকা আদালতে জমা দেন তাতেও ছিল না অভিযুক্ত ২ ব্যক্তির নাম। এর পরই সিবিআইকে ঘটনার অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন বিচারপতি। এদিন বিচারপতি বলেছেন, কাদের মদতে এই দুর্নীতি হয়েছে তা খুঁজে বার করতে হবে। এর পিছনে আর্থিক লেনদেন রয়েছে কি না তাও জানাতে হবে সিবিআইকে। সেজন্য অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করবে সিবিআই। আবেদনকারীদের অভিযোগ, SSC-র শিক্ষক নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। মেধাতালিকায় নাম নেই এমন ব্যক্তিরা টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পেয়েছেন। অথচ মেধাতালিকায় নাম থাকা প্রার্থীরা চলে গিয়েছে ওয়েটিং লিস্টে।

এর আগে গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে দায়ের পৃথক ২টি মামলায় সিবিআই অনুসন্ধানের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। কিন্তু ২ ক্ষেত্রেই সিবিআই তদন্তে স্থগিতাদেশ দিয়ে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে আদালত। তবে ঘটনা কী এখানেই সীমাবদ্ধ নাকি টান পড়বে আরও অনেকের চাকরি নিয়েও উঠে আসছে সেই প্রশ্নও। বিশেষ করে এক প্রাক্তন মন্ত্রী কন্যার নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। কোচবিহারের মেখলিগঞ্জে শিক্ষিকা হিসাবে কর্মরতা মন্ত্রীকন্যা প্যানেলে না থাকা স্বত্বেও নিয়োগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ ।

বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক নিয়োগের জন্য স্কুল সার্ভিসের মেধা তালিকাকে কেন্দ্র করে। আদালতের নির্দেশে, স্কুল সার্ভিসে নিয়োগের ক্ষেত্রে আগে মেধা তালিকা প্রকাশ করা হয়। আর সেই তালিকা পিডিএফ ফরম্যাটে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক ছিল। কোচবিহারে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক নিয়োগের জন্য এসএসসি তালিকা প্রকাশ হয়েছিল। SC জাতিভুক্তদের জন্য মেধা তালিকার ওয়েট লিস্টে প্রথমে নাম ছিল ববিতা বর্মনের। অথচ পরে এসএসসি-র ওয়েবসাইটে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত আসনের ওয়েট লিস্টে দেখা যায় ববিতার নাম চলে গিয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। প্রথম স্থানে রয়েছে পরেশ অধিকারীর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীর নাম।

উল্লেখযোগ্য হল, এক দিন আগে পর্যন্ত তালিকায় নামই ছিল না অঙ্কিতার।এর পরে তালিকায় নাম থাকা চাকরি প্রার্থীদের ইন্টারভিউয়ের সময়েও অঙ্কিতাকে দেখা যায়নি বলে একাধিক সংবাদমাধ্যম দাবি করে। ঘটনা হল বাম জামানায় গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী পরেশ অধিকারী ফরওয়ার্ড ব্লক ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পরেই তাঁর মেয়ে অঙ্কিতা অধিকারীর নাম উঠে আসে ওয়েট লিস্টের প্রথমে। সেই অঙ্কিতা মেখলিগঞ্জে তাঁর বাড়ির পাশের স্কুলেই চাকরি করছেন। মাঝে কয়েক বছর পেরিয়ে যাওয়ায় হয়ত  ধামা চাপা পড়ে গিয়েছিল সেই পরেশ অধিকারী বিতর্ক। কিন্তু মেখলিগঞ্জের ইন্দিরা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষিকা অঙ্কিতা বর্মনের প্রসঙ্গও এবার আদালতে আসে কিনা তাও দেখার।

- Advertisement -
Latest news
Related news