Monday, May 20, 2024

Suvendu Adhikari: শুভেন্দুকে জব্দ করতে গিয়ে জব্দ হল রাজ্য! গ্রেপ্তার করাতো যাবেইনা, যখন তখন ডেকে পাঠাতেও পারবেনা পুলিশ, জানালো হাইকোর্ট

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: শুভেন্দু অধিকারীকে গ্রেপ্তার করা যাবেনা শুধু তাই নয় যখন তখন তাঁকে ডেকে পাঠানো যাবেনা। তাঁকে কোনও বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হলে তাঁর সময় নিয়েই তা করতে হবে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের চালু করা একাধিক মামলায় স্থগিতাদেশ দিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি। আর এই গোটা ঘটনায় যাচ্ছেতাই ভাবেই মুখ পুড়ল রাজ্য সরকারের। মুখে না বললেও হাইকোর্টের এই রায় বুঝিয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকারের শুভেন্দু অধিকারীর প্রতি মনোভাব আসলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই নামান্তর।ক’দিন আগেই অযথা তদন্তের নামে আদালতের সময় খরচ করার জন্য ক’দিন আগেই রাজ্যকে ভর্ৎসনা করেছিল হাইকোর্ট। এবার যেন সরাসরি চপেটাঘাত।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

সোমবার আদালত জানিয়ে দিয়েছে ভবিষ্যতে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে কোনও এফআইআর হলেও তাঁকে আদালতের অনুমতি ছাড়া গ্রেপ্তার করা যাবে না। হাইকোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা সোমবার জানিয়ে দিয়েছেন, শুভেন্দুকে কোনও মামলায় গ্রেপ্তার করা যাবে না।  তিনি রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। তাই তাঁর মর্যাদার কথা বিবেচনা করেই তদন্তের গতিপ্রকৃতি নির্ধারিত করতে হবে। সিআইডি বা পুলিশ হঠাৎ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করলেই তাঁর পক্ষ হাজির হওয়া সম্ভব না-ও হতে পারে। পাশাপাশি এদিন বিচারক কাঁথি, নন্দীগ্রাম এবং পাঁশকুড়া থানায় শুভেন্দুর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলির শুনানির উপর স্থগিতাদেশও জারি করেছে হাই কোর্ট। কাঁথি থানায় দায়ের হওয়া দেহরক্ষীর রহস্যমৃত্যুর মামলা এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে তৎকালীন তৃণমূলের মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দেহরক্ষী শুভব্রত চক্রবর্তী গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছিল। সেই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোমবার ভবানীভবনে শুভেন্দুকে তলব করেছিল সিআইডি। কিন্তু তিনি হাজির হননি। তিনি সরাসরি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। এবং আর্জি জানান, শুভেন্দু আদালতে আর্জি জানিয়েছিলেন, হয় মামলাগুলি খারিজ করা হয় অথবা সিবিআই তদন্ত হোক। যুক্তি ছিল, প্রতিটি মামলাই রাজ্যনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রণোদিত এবং তাঁর রাজ্য পুলিশের উপর কোনও ভরসা নেই। এরপরই এমনই আদেশ দেন বিচারক।

  শুভেন্দুর আইনজীবীদের বক্তব্য ছিল, ছিনতাইয়ের মত মামলারও আসামী করা হচ্ছে তাঁদের মক্কেলকে। শুভেন্দু জানতেই পারছেননা কোথায় কখন তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হচ্ছে। যখন তখন ডেকে পাঠানো হচ্ছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। ২বছরের পুরনো দেহরক্ষীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর এফআইআর এখন করা হচ্ছে। আর এসবই করা হচ্ছে শুধু তাঁকে রাজনৈতিক ভাবে হেনস্থা করার জন্য। একজন বিরোধী দলনেতাকে তাঁর ভূমিকা পালন না করতে দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়েই। উল্লেখ্য, নন্দীগ্রামে রাজনৈতিক রাজনৈতিক মারধর, তমলুকে এবং পাঁশকুড়ায় একটি ছিনতাইয়ের অভিযোগের মামলাও দায়ের হয়েছিল শুভেন্দুর বিরুদ্ধে।

এরপরই শুভেন্দুর বিরুদ্ধে কলকাতা-সহ রাজ্যের পাঁচটি থানায় দায়ের হওয়া পাঁচটি মামলার তিনটিকেই অপ্রয়োজনীয় মনে করে স্থগিতাদেশ দিয়েছে আদালত প্রসঙ্গে সোমবার এই নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। তমলুকে দায়ের হওয়া পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এবং কলকাতার মানিকতলা থানায় দায়ের হওয়া চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগের মামলা দু’টির শুনানি চলতে পারে বলে জানিয়েছে আদালত। কিন্তু শুভেন্দু জিজ্ঞাসাবাদ করতে হলে তাঁর সময় নিয়েই করতে হবে এবং শুভেন্দুকেও বলা হয়েছে তদন্তে সহযোগিতা করার জন্য। আদালত জানিয়েছেন, সোমবার আদালতের নির্দেশ শুভেন্দুকে গ্রেপ্তার বা তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। নতুন এফআইআর হলে শুভেন্দুকে জানাতে হবে। আর এর ফলে ভবিষ্যতে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলাই হাইকোর্টের আওতায় চলে আসল বলে মনে করা হচ্ছে।

- Advertisement -
Latest news
Related news