Friday, April 19, 2024

West Midnapur: এখনও সঙ্কটে শালবনীর জ্যোৎস্না, হাসপাতাল ছাড়লেও খুলবে জেলের দরজা! চাঁদাবিলায় আদিবাসী কন্যার জন্য দুশ্চিন্তায় পরিবার

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: এন.আর.এস হাসপাতালে এখনও সঙ্কটেই রয়েছেন শালবনীর চাঁদাবিলা জ্যোৎস্না টুডু। মঙ্গলবার বিকাশ ভবনের সামনে যে ৫ শিক্ষিকা কীটনাশক পান করেছিলেন জোৎস্না তাঁদেরই একজন। চল্লিশোর্ধ জোৎস্নার বিধবা বৃদ্ধা মা বারি টুডু এখনও জানেননা মেয়ের খবর। জোৎস্নার দুই ভাই কিন্তু তাঁরা পরিবার নিয়ে আলাদাই থাকেন। ফলে বৃদ্ধা মায়ের একমাত্র ভরসা জোৎস্নাই। সেই জোৎস্নাকেই বদলি করা হয়েছে ৬৭৫ কিলোমিটার দুরে ধুপগুড়িতে। মাত্র ১০হাজার টাকা বেতনের চাকরি। এই টাকায় ধুপগুড়ি! তাছাড়া মা কে দেখবে কে? এই সব নিয়েই অন্যান্য বদলি হওয়া শিক্ষক শিক্ষিকাদের দীর্ঘ আন্দোলন করেও ফল না মেলায় শেষমেশ মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সঙ্গে দেখা করতে বিকাশ ভবন গিয়েছিলেন তাঁরা। তারপর পুলিশের বাধা পেয়ে ‘হামলা’ কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

‘হামলা’র বিষ কতটা শরীরের ভেতরে প্রবেশ করে রক্তে ও অন্ত্রে মিশেছে জানা নেই। তবে এনআরএস হাসপাতালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে ভর্তি রয়েছেন জোৎস্না। অবস্থা আশঙ্কাজনক। ইতিমধ্যেই পুলিশের তরফে ওই ৫ শিক্ষিকার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। মামলা আত্মহত্যার চেষ্টার, মামলা পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার। অৰ্থাৎ যদিও হাসপাতাল থেকে বেঁচে ফেরেন ঢুকতে হবে পুলিশ গারদে। ফলে জোৎস্নার মা বারি টুডু এখুনি তাঁর মেয়ে কে দেখতে পাবেন এমন আশা কম।

শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু দাবি করেছেন বিজেপি ক্যাডার। হলেই বা, বিজেপি ক্যাডার হলেই তাঁকে ৬৭৫কিলোমিটার দুরে বদলি করে দিতে হবে? তাহলে এটা কী প্রতিহিংসার বদলি? এর আগে ২০১৯ সালে রাজ্য কোঅর্ডিনেশন কমিটির এক শীর্ষ নেতা সাধারণ সম্পাদক বিজয় শঙ্কর সিনহা সহ ১৫জনকে দার্জিলিং নেপাল সীমান্ত সহ বিভিন্ন জায়গায় বদলি করা হয়েছিল শুধু প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে? মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আপনি যে বুদ্ধিজীবী! নাট্যকার! আপনার মুখে এ কথা মানায়? তাছাড়া জোৎস্না কী সত্যি বিজেপি ক্যাডার! এলাকার লোক তেমন জানেনা। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনী তৃনমূলের এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, ‘শুনেছি উনি বিজেপির সাথে ঘোরা ফেরা করতেন ইদানিং অবশ্য মইদুলের সংগঠনেই ছিলেন। মইদুল ইসলাম, যিনিও বর্তমানে গ্রেপ্তার এবং শিক্ষক ঐক্য মুক্তমঞ্চের প্রধান সংগঠক।

জোৎস্না কী করেন জানা নেই তবে জোৎস্নার দুই ভাই সমর ও বাদল টুডু নাকি তৃনমূলই করে। এই নির্বাচনে তাঁরা তৃণমূলেরই হয়ে দমতক খেটেছে এমনই খবর আছে। সেই দুই ভাই নাকি দিদির খবরটা পাওয়ার পর থেকেই স্থানীয় বিধায়ক তথা মন্ত্রী শ্রীকান্ত মাহাতর সঙ্গে দেখা করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েও সফল হননি। মন্ত্রীর ভীমপুরের বাড়ি থেকে চন্দ্রকোনা রোডের বাড়িতে গেছিলেন তাঁরা। জোৎস্না যখন ক্লাশ টুয়েলভে তখন বাবার মৃত্যু হয়। তারপর মায়ের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে সংসারের জোয়াল টেনেছেন। দুই ভাইকে দাঁড় করিয়ে আলাদা সংসার করে দিয়েছেন। তারপর মাকে নিয়ে আলাদা থাকতেন।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে জোৎস্নাকে কেন বদলি করা হল? জোৎস্না একটি সাঁওতালি মাধ্যম SSK বা শিশুশিক্ষা কেন্দ্রের বৃত্তিমূলক শিক্ষিকা। তাঁকে ৬৭৫ কিলোমিটার দুরে একটি হিন্দি মাধ্যম SSK তে বদলি করা হল কেন? সঠিক কারন জানা যায়নি তবে তৃনমূলের একটি সূত্রে জানা গেছে বছর কয়েক আগে ঝাড়গ্রাম জেলায় একটি প্রশাসনিক সভায় এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রশাসনের উদ্যোগে একটি জনসভা, যেখানে বিভিন্ন উপভোক্তাকে সরকারি সাহায্য প্রদান করা হচ্ছিল সেই সময় পেছন দিক থেকে প্ল্যাকার্ড দেখিয়ে নিজেদের কিছু দাবি পেশ করতে চেয়েছিলেন মহিলারা। যা দেখে অত্যন্ত বিরক্তি প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তারই মধ্যে নাকি জোৎস্না ছিলেন।

নাকি বলা এই কারনে যে এরকম একটি ঘটনা ঝাড়গ্রামের সভায় ঘটেছিল কিন্তু ঠিক সেই কারণেই জোৎস্নার বদলি হয়েছে এমনটা নিশ্চিত করা যায়নি। তবে এক তৃনমূল নেতৃত্ব এমনটাই বলেছেন যে, ‘ঝাড়গ্রামে মুখ্যমন্ত্রীকে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন জোৎস্না এটুকু আমরা জানি।’
যদি এটা হয়ে থাকে তবে বলতে হয় শিলাদিত্যর ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েছে সরকার। ঝাড়গ্রাম জেলার শিলাদিত্য সারের দাম কেন বাড়ছে প্রশ্ন করায় সাথে সাথেই সভা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। জোৎস্নাকে অন্ততঃ তা করা হয়নি। বেশ রয়ে সয়ে যা করার করা হয়েছে। বদলি করা হয়েছে এমন জায়গায় যেখানে চাকরি করাই মুশকিল।

আজ থেকে ১২/১৩বছর আগে এ ঘটনা ঘটলে মিডিয়ার এখন ঠিকানা হত চাঁদাবিলা গ্রাম। শালবনী ছাড়িয়ে চকতারিণী হয়ে গাড়ি ছুটত সিজুয়ার দিকে। তারপর সিজুয়া ঢোকার চার কিলোমিটার আগে ডানদিকে জঙ্গললের ভেতর গাড়ি ঢুকত বারি টুডুর সন্ধানে। বারি টুডু ছাগল ছরাচ্ছে মাঠে, থুরথুরে বুড়ি এক কাপড়ে কাঁপতে কাঁপতে বলত, খিঁচ মেরি ফটো, খিঁচ মেরি ফটো। মিডিয়ার কিছু করার নেই কারন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং তখন চাঁদাবিলায়। পেছনে পেছনে নাট্যকার ব্রাত্য বসু, কৌশিক সেন সহ বাংলার তাবৎ বুদ্ধিজীবী সমাজ। মিডিয়ার কাছে তখন আদিবাসী মহিলার প্রতি সরকারের দারুন প্রতিহিংসার জাজ্বল‍্য উদাহরণ জোৎস্না টুডু আর বারি টুডু! হয়ত জঙ্গলে বেজে উঠত ধামসা দামামা, বিষ খেয়েছে আদিবাসী কন্যা! জঙ্গলে পড়ত মাওবাদী পোষ্টার আর শহরে বিপ্লবী সমর্থন। কিন্তু এখন বারুদ মিইয়ে গেছে। এখন মৃত্যু নাকি জেল? শুধু সেই খবরের অপেক্ষা। গদি বদলে যেতে মানুষও কেমন বদলে যায়, এমন কী মিডিয়াও!

- Advertisement -
Latest news
Related news