Wednesday, May 22, 2024

West Midnapur: বিদ্যালয়ই পারে নারী সশক্তির প্রকৃত পথ খুলে দিতে; আলোচনা সভা থেকে সেই অঙ্গীকারই নিলেন বিদ্যালয় প্রধানরা

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: উনিশ শতকের বাংলায় বাংলার নবজাগরণ পর্বে বাঙালি মনীষা বুঝতে পেরেছিলেন যে নারী মুক্তিকে বাদ দিয়ে নবজাগরণ সফল হতে পারেনা। আর নারী মুক্তির অন্যতম হাতিয়ার হল নারী শিক্ষা। এই নারী শিক্ষার হাত ধরেই নারীর সশক্তি বিকাশের পথও খুলে গেল। আর সেটা উপলব্ধি করেই কলকাতা থেকে জেলায় বিভিন্ন ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে ওঠে বালিকা বিদ্যালয় গুলি। আর সেই বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকা থেকে বিদ্যালয়েরর প্রধানরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিলেন। একুশ শতকের বুকে দাঁড়িয়েও বিদ্যালয় প্রধানদের সে দায়িত্ব সে হয়ে যায়নি। বিশেষ করে আর্থ সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া অঞ্চলে।রবিবার মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগর বিদ্যাপীঠ বালিকা বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘নারী সশক্তিকরণ’ বিষয়ক আলোচনা সভায় উঠে এল এমনই নির্যাস।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে
চন্দন মাইতি (বাঁদিক থেকে দ্বিতীয়)

আলোচনার ব্যবস্থাপনায় ছিল জাতীয় স্তরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘মুক্তি’ এবং সহযোগিতায় অ্যাডভান্সড সোসাইটি ফর হেডমাস্টারস অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেসেস,পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা শাখা। দু’বছরের কাছাকাছি বয়স হতে চলল বিদ্যালয় প্রধানদের নিজস্ব সংগঠন এই অ্যাডভান্সড সোসাইটি ফর হেডমাস্টারস অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেসেস। কিন্তু নিজেদের দাবি দাওয়ার বাইরে গিয়ে অতি অল্প সময়ের মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও কর্তব্যবোধের বিরল নজির রেখেছে এই সংগঠনটি। রবিবার তার আরও একটি নির্দশন মিলল এই আলোচনা সভায়। যেখানে অন্যের ঘাড়ে দায় না চাপিয়ে এই আলোচনার নির্যাস হিসাবে নারীর সশক্তি বিকাশের জোয়ালটি নিজেদের কাঁধের ওপরেই অনায়াসে নিয়েছেন তাঁরা।

আলোচনায় উঠে এসেছে, বাল্যবিবাহ, নারী পাচার, নারীর প্রতি অত্যাচার ও দুর্ব্যবহার ইত্যাদি রুখে নারী কল্যাণে আরও বেশি অগ্রণী ভূমিকা নিতে বিদ্যালয় প্রধানদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। সংগঠকরা জানিয়েছেন অতি অল্প সময়ের মধ্যেই এই আলোচনা সভার উদ্যোগ নিয়েছেন তাঁরা। আলোচনা সভার উদ্বোধন করেন বিদ্যাসসাগর বিদ্যাপীঠ বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ।সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকা সংগঠনের জেলা সভাপতি অমিতেশ চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন মুক্তির কর্ণধার শঙ্কর হালদার, সম্পাদক সত্যজিৎ রায়, অ্যাডভান্সড সোসাইটি ফর হেডমাস্টারস অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেসেস এর রাজ্য সম্পাদক চন্দন মাইতি, জেলা সম্পাদক ভূপাল প্রসাদ চক্রবর্তী প্রমুখ ।

এদিন অতিথিদের হাতে মেদিনীপুর জেলা আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন পটচিত্র তুলে দেওয়া হয়,সঙ্গে পটের গান পরিবেশিত হয়। এছাড়াও লোকসংস্কৃতির অন্যধারা “আদিবাসী নৃত্য” পরিবেশনের মাধ্যমে অতিথিদের সম্মান প্রদর্শন করা হয় । স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “মুক্তি”পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রধান শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষিকাদের সংগঠন অ্যাডভান্সড সোসাইটি ফর হেডমাস্টারস অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেসেস এর সঙ্গে সমাজসেবামূলক কাজকর্ম করার অঙ্গীকার করেন । ইয়াস ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা, করোনা আবহে অক্সিজেন পার্লারের মাধ্যমে মুমূর্ষু মানুষের সেবা ইত্যাদি কর্মসূচির পাশাপাশি নারী প্রগতির জন্য সারা দেশে “মুক্তি” কাজ করতে আগ্রহী, এ কথা জানালেন মুক্তির কর্ণধার শঙ্কর হালদার ।

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্তের শতাধিক প্রধান শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষিকা এদিনের আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিদ্যাসাগর বিদ্যাপীঠ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা স্বাতী বন্দ্যোপাধ্যায় ও দাঁতন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সূর্যকান্তি নন্দ। সবুজায়নের বার্তা দিতে শিবিরে আগত অতিথিদের হাতে চারাগাছ উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়। অ্যাডভান্সড সোসাইটি ফর হেডমাস্টারস অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেসেস এর রাজ্য সম্পাদক চন্দন মাইতি ‘KGP বাংলা’কে জানালেন, “আমরা,এই সংগঠনের সদস্য বা সদস্যরা এই সত্যটা কখনও ভুলে যাইনা যে আমাদের প্রাথমিক এবং চূড়ান্ত কাজটিই হল শিক্ষকতা। ছেলে মেয়েদের শিক্ষিত হয়ে উঠতে সাহায্য করাই আমাদের কর্তব্য আর সেই কর্তব্য শুধু সিলেবাসেই সীমাবদ্ধ থাকেনা।”

প্রসঙ্গত উল্লেখ করতেই হয় যে শ্রী মাইতি সুন্দরবনের একটি প্রান্তিক এলাকার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক যিনি ওই পিছিয়ে পড়া এলাকায় বাল্য বিবাহ রোধ থেকে শুরু করে মহিলা পাচারের বিরুদ্ধে মাঠে ময়দানে নেমে কাজ করে চলেছেন যা জাতীয় স্তরে প্রশংসিত হয়েছে। নিজের এলাকা থেকে পাচার হয়ে যাওয়া একাধিক কিশোরীকে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার করার পর নিজের স্কুল হোস্টেলে রেখে তাঁদের পাঠ চালিয়ে যাচ্ছেন।

- Advertisement -
Latest news
Related news