Tuesday, April 16, 2024

পেটুয়া বন্দরে যাওয়ার পথে মোহনায় উল্টে গেল ট্রলার! জলের স্রোতে ভেসে গেলেন ৯ মৎস্যজীবী, উদ্ধার ২ মৃতদেহ, নিখোঁজ ৭

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা : আর মাত্র ৫ দিন! তারপরই শুরু হতে চলেছে মৎসজীবীদের বছর ভরের জীবিকা উপার্জনের জন্য সমুদ্র যাত্রা। কিন্তু তার আগেই ঘটে গেল ভয়াবহ দুর্ঘটনা। সমুদ্র যাত্রার প্রস্তুতি পর্বেই ট্রলার উল্টে মৃত্যু হল ২ মৎসজীবীর। নিখোঁজ ৭ জন, ফলে মৃতের সংখ্যা বাড়ার তীব্র আশঙ্কায় নিখোঁজ মৎসজীবী পরিবারগুলি। প্রশাসনের পক্ষে নিখোঁজদের উদ্ধারে তল্লাশি চালানো হলেও রাত্রি নামায় ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধার কার্য। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে উদ্ধার হওয়া মৃত দুই মৎসজীবী হলেন খুঁসেদ খাঁ ( ৩৫) ও সফিরুল খাঁ (৩২)। সম্পর্কে দুই ভাই তাঁরা। বাড়ি দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার সাগর এলাকায়। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম থেকে ট্রলারটি কাঁথির পেটুয়া মৎস্য বন্দরে নোঙর করতে যাওয়ার আগেই রসুলপুর নদী মোহনায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সকাল ৬ টা নাগাদ।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে মৎস প্রজননের স্বার্থে গত ১৫ই এপ্রিল থেকে সমুদ্রে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শুরু হয় যা চলে ১৪ই জুন অবধি। অর্থাৎ আগামী ১৫ই জুন থেকে ফের সমুদ্র যাত্রা শুরু হবে মৎসজীবীদের। ট্রলার কিংবা যন্ত্রচালিত নৌকা নিয়ে সমুদ্র যাত্রা করবেন তাঁরা। মৎসশিকারের পূর্বে ট্রলারের রসদ সংগ্ৰহ অর্থাৎ তেল, জল, বরফ ইত্যাদি নেওয়ার জন্য নন্দীগ্রামের ‘আলামিন’ ট্রলার যাচ্ছিল পেটুয়া বন্দরের উদ্দেশ্যে। বৃহস্পতিবার রাতে যাত্রা শুরু করেছিল দুর্ঘটনার কবলে পড়া ট্রলারটি। বন্দরের পথে রসুলপুর নদী মহনায় চড়ায় আটকে যায় ট্রলারটি। সকাল ৬ টা নাগাদ জোয়ার শুরু হলে তীব্র জলস্রোতে উল্টে যায় সেটি। এরফলে সঙ্কটে পড়েন ট্রলারের চালক সহ ১২জন মৎস্যজীবী। ট্রলারের ভেতরে জল ঢুকতে শুরু করলে কয়েকজন ট্রলার ছেড়ে মোহানার জলে ঝাঁপিয়ে পড়েন। মৃত দুই ভাই আটকে যান ডুবন্ত ট্রলারেই। মৃত দুই মৎস্যজীবীর সম্পর্কিত আরেক ভাই মুর্শেদ খাঁ সহ ৩ জন সাঁতরে পাড়ে ওঠেন। তীব্র জলস্রোতে ভেসে যান ৭জন।

খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় জাতীয় বিপর্যয় উদ্ধার কারী দল এনডিআরএফ এবং ইন্ডিয়ান কোস্ট গার্ড বা উপকূলরক্ষী বাহিনী। হুভারক্র্যাফট, হেলিকপ্টার ও স্পিডবোট নামিয়ে নিখোঁজ মৎসজীবীদের খোঁজে জোর তল্লাশি শুরু হয়। এরপরই উদ্ধার হয় ২জনের মৃতদেহ। বাকি ৭ জনের খোঁজ মেলেনি এখনও। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে হাজির হন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজি, কাঁথির মহকুমা শাসক আদিত্যবিক্রম মোহন হিরানি, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সোমনাথ সাহা এবং কাঁথি মৎস্য দপ্তরের সামুদ্রিক বিভাগের সহকারী অধিকর্তা সুরজিৎ বাগ প্রমূখরা।

সহকারী মৎস্য অধিকর্তা সুরজিৎ বাগ বলেন, ‘ বন্দরে ঢোকার আগে রসুলপুর মোহনায় চড়ায় গেঁথে যায় এবং তীব্র জলস্রোতে সেটি উল্টে যায়। ট্রলারটি চড়ায় গেঁথে যাওয়ায় কারণে প্রবল ঢেউয়ে সেটি উল্টে যাওয়ার কারণে কেবিন থেকে দেহ বের করতে হয় উদ্ধারকারীদের। উল্লেখ্য রসুলপুর নদীর মোহনায় এই চড়ার কারনে বারংবার বিপদে পড়তে হয় ট্রলারগুলিকে। ফি বছরই দুর্ঘটনার পরও মৎসজীবীদের দাবি মেনে চড়ার অংশে ড্রেজিং করা হয়না বলে জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ মৎসজীবীরা।

- Advertisement -
Latest news
Related news