Sunday, April 14, 2024

Midnapur Heritage:হেরিটেজ হোক মেদিনীপুর কালেক্টরেটের পুরনো ভবনটি! চাইছে জেলা প্রশাসন, শহর জুড়ে আরও হেরিটেজ ভবন চাইছে থেকে মেদিনীপুরবাসী

- Advertisement -spot_imgspot_img

বিশেষ সংবাদদাতা: ব্রিটিশ আমলের পুরনো ভবন। চুন-সুরকি, কড়ি-বরগায় যেন কথা বলে ইতিহাস। মেদিনীপুর কালেক্টরেটের এই পুরনো ভবনের হেরিটেজ স্বীকৃতি চাইছে জেলা প্রশাসনও। প্রশাসন চায়, ভবনটি হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করা হোক এবং এর সংস্কার ও সংরক্ষণে পদক্ষেপ করা হোক। এই একই দাবি করছেন মেদিনীপুর শহরের বাসিন্দারাও। সাথে মেদিনীপুরবাসীর দাবি শহরের বিভিন্ন জায়গায় থাকা ভবনগুলিও হেরিটেজের আওতায় আনা হোক।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

প্রশাসন সূত্রে খবর, এই মর্মে চিঠি পাঠানো হয়েছে রাজ্য হেরিটেজ কমিশনে। সম্প্রতি কমিশনের সচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলাশাসক রশ্মি কমল। জেলাশাসক মানছেন, ‘‘কালেক্টরেটের পুরনো ভবনটি হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা করার আর্জি জানানো হয়েছে।’’মেদিনীপুরে কালেক্টরেট চত্বরে রয়েছে পুরনো ভবনটি। এখানেই ছিল জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসকের দফতর। ক’বছর আগে এই চত্বরে নতুন ভবন গড়ে উঠেছে। সেখানে জেলাশাসক, অতিরিক্ত জেলাশাসকের দফতর স্থানান্তরিত হয়েছে।

পুরনো ভবনে অবশ্য কয়েকটি দফতর থেকে গিয়েছে। ঠিক কবে এই ভবনের গোড়াপত্তন, সে নথি অনেক খুঁজেও মেলেনি। প্রশাসনিক সূত্র জানাচ্ছে, ১৯৩৪ সালে যে ভবনটির অস্তিত্ব ছিল, সে প্রমাণ মিলেছে। যে নকশা ধরে এই ভবন হয়েছে, তারও খোঁজ নেই। ঘরগুলি উঁচু ছাদের। পুরনো আমলের কিছু আসবাবপত্রও রয়েছে।

ইতিউতি ফাটল ধরেছে। কালেক্টরেটের কর্মীদের মতে, এই কাঠামো এখনও কতটা পোক্ত রয়েছে, তা জানতে ভবনের কিছু অংশ কেটে ভিতরের চুন-সুরকি পরীক্ষা করা দরকার। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিকও বলেন, ‘‘সংস্কার মানে শুধু ভাঙাভাঙি নয়। পুরনো চেহারা ফেরানোর কাজে হাত দেওয়ার আগে বহু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে।’’
মেদিনীপুরের অনেকে মনে করাচ্ছেন, ঐতিহ্য সংরক্ষণে যে আইন রয়েছে, তাতে বিস্তর ফাঁক আছে। তা গলেই নষ্ট হচ্ছে একের পর এক ঐতিহ্যবাহী বাড়ি বা ভবন। প্রশাসন সূত্রে খবর, রাজ্য হেরিটেজ কমিশনে যে চিঠি পাঠানো হয়েছে, সেখানে মেদিনীপুরের ইতিহাস এবং এই ভবনের গুরুত্ব মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মনে করানো হয়েছে, ১৭৬০ সালেই মেদিনীপুর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনে চলে এসেছিল। সে সময়ে খাজনা আদায়ের নামে অবাধ লুট ও অত্যাচার করা হয়েছিল। মনে করানো হয়েছে, ১৯৩১, ১৯৩২, ১৯৩৩ পরপর এই তিন বছরে মেদিনীপুরে খুন হন তিন অত্যাচারী জেলাশাসক— পেডি, ডগলাস, পরপর তিন জেলাশাসক খুন হওয়ায় অনেকটাই বেকায়দায় পড়ে গিয়েছিল ব্রিটিশ সরকার।
কালেক্টরেটের কর্মীদের মতে, ‘‘ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান জানিয়েই ভবনটি সংস্কার ও সংরক্ষণ করা দরকার।’’ প্রশাসনিক সূত্র জানাচ্ছে, রাজ্যের মধ্যে অন্যতম পুরনো জেলা সদর মেদিনীপুরই। ভবনটির সংস্কার ও সংরক্ষণের দাবি দীর্ঘদিনের। জেলাশাসক জুড়ছেন, ‘‘পুরনো ভবনটির স্থাপত্যশৈলীই আলাদা। দেওয়ালে সুক্ষ্ম কারুকাজ রয়েছে।’’

এই একই দাবি মেদিনীপুরবাসীরও। মেদিনীপুরের বিশিষ্ট আইনজীবী তীর্থঙ্কর ভকত বলেন “স্বাধীনতা আন্দোলনের পীঠস্থান এই মেদিনীপুর শহর। সহিংস আন্দোলনে ঘুম কেড়ে নিয়েছিল ইংরেজদের। কিন্তু এক এক করে সেই সব স্মৃতি ধ্বংস হয়ে গেছে। মেদিনীপুরে ব্রাহ্মসমাজের মন্দির, কেদেনবাবুর গলিতে বিপ্লবীদের আখড়া। রাজনারায়ন বসু, সত্যেন বসু, জ্ঞানেন্দ্র নাথ বসুরা। অরবিন্দ ঘোষদের সভা করার জায়গা কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। ভারতে জাতীয়বাদের জনক রাজনারায়ন বসু প্রতিষ্ঠিত এই ব্রাহ্মসমাজ মন্দিরই ছিল বিপ্লবের সূতিকাগার। কালেক্টরেট ভবনটিকে হেরিটেজ করার আবেদন জানানো হয়েছে ভালো কথা কিন্তু শহরের আরও ঐতিহ্যবাহী ভবনগুলি সংরক্ষিত হোক ভবিষ্যত প্রজন্মের স্বার্থে।”

কর্নলেগোলার বাসিন্দা অরুণ মিত্র বলেন, ‘এখনও যেটুকু আছে তা রক্ষা করা হোক না হলে পরবর্তী প্রজন্ম জানবেটা কী? এই প্রজন্ম কী জানে ইংরেজ সাহেবদের প্রতীক হিসেবে সাদা পাঁঠা বলি দিয়ে বিপ্লবীরা শপথ নিতেন ইংরেজ প্রশাসকদের খতম করার। কোথায় হত সেই শপথ গ্রহণ? কোথায় আছে সেই খাঁড়া? এই সব খুঁজে বের করেও সংরক্ষণ করা দরকার।’

- Advertisement -
Latest news
Related news