Wednesday, May 22, 2024

Temple Tell: জীর্ণ মন্দিরের জার্ণাল- ১৩২ !! চিন্ময় দাশ

- Advertisement -spot_imgspot_img

জীর্ণ মন্দিরের জার্ণাল— ১৩২ চিন্ময় দাশ
লক্ষ্মীবরাহ মন্দির, করকাই (পিংলা)

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

১০০ বছরের বেশী আয়ু হয়েছে, এবং নির্মিত হয়েছে একেবারে স্থাপত্য-রীতি মেনেই, মেদিনীপুর জেলায় এমন মন্দিরের সংখ্যা আটশ’ থেকে হাজার হওয়ারই সম্ভাবনা। তার ভিতর বহু মন্দির গড়ে তোলা হয়েছিল বেশ অলংকৃত করেই। পরিতাপের কথা, সেসকল মন্দিরের সিংহভাগই প্রতিদিন তিলে তিলে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে সকলের চোখের সামনে। আমাদের কাউকে নাড়া দিয়ে যাচ্ছে না এই ধ্বংসলীলা। তেমনই একটি অনিন্দ সুন্দর মন্দির গড়ে উঠছিল পিংলা থানার করকাই গ্রামে। মন্দরটির প্রতিষ্ঠা কে করেছিলেন, তা নিয়ে দুটি অভিমত জানা যায়। সেগুলি এরকমঃ ১। মেদিনীপুর নগরীর খ্যাতনামা জমিদার জন্মেঞ্জয় মল্লিকের কাছারীবাড়ি ছিল এই করকাই গ্রামে। কাছারিবাড়ির সাথে একটি বিষ্ণু মন্দিরও গড়েছিলেন জন্মেঞ্জয়। প্রজাবর্গের ধর্মাচরণের জন্য, আলোচ্য এই মন্দিরটি জন্মেঞ্জয়ই গড়ে দিয়েছিলেন—কিছুজনের এমনই অভিমত।
২। অন্যেরা বলেন, করকাই গ্রামে বসু পদবীর অন্য একটি জমিদার বংশের বসবাস ছিল। নিজেদের কুলদেবতার জন্য বসুবংশই মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
মল্লিক কিংবা বসু—যে জমিদার বংশই মন্দিরটি গড়ে থাকুন না কেন, মন্দিরের মালিকানা বহুকাল আর জমিদারবংশের হাতে নাই। সম্পত্তির মালিকানা হাত-বদল হতে হতে, যাঁদের হাতে পৌঁছেছে, টেরাকোটা অলংকৃত মন্দিরের সংস্কার বা সংরক্ষণ করা তাঁদের সাধ, সাধ্য বা নাগালের অনেকখানি বাইরে। সকলের চোখের সামনে প্রতিদিন এক পা এক পা করে তিলে তিলে মৃত্যুর পথে এগিয়ে চলেছে মনোরম সৌধটি।
বেশ উঁচু পাদপীঠের উপর দক্ষিণমুখী ইটের মন্দিরটি নব-রত্ন রীতিতে নির্মিত হয়েছে। সামনের অলিন্দটি তিন-দ্বারী। দরুণ-রীতির খিলান আর ইমারতি-রীতির থামের সাহায্যে দ্বারগুলি রচিত হয়েছে। অলিন্দের পিছনে গর্ভগৃহটিতে একটিই দ্বারপথ। অলিন্দের সিলিং টানা খিলান আর গর্ভগৃহের সিলিং খিলানের মাথায় গম্বুজ স্থাপন করে রচিত হয়েছে।
মন্দিরের দ্বিতলেও একটি ত্রিখিলান দ্বারযুক্ত অলিন্দ এবং গর্ভগৃহ নির্মিত হয়েছে। মন্দিরের সবগুলি রত্নই শিখর দেউল রীতির। সেগুলির সর্বাঙ্গ জুড়ে রথ-বিভাজন এবং উপরের গণ্ডী অংশে পীঢ়-ভাগ করা। শীর্ষকগুলি এতটাই জীর্ণ যে কিছুই প্রায় অবশিষ্ট নাই।

মন্দিরটি দীর্ঘদিন গৌরবান্বির ছিল টেরাকোটা অলঙ্করণের কারণে। সামনের দেওয়াল জুড়ে ফলকের সমাবেশ করা হয়েছে সৌধটিতে। ফলকের মোটিফ নেওয়া হয়েছে রাময়ণ, মহাভারত, কৃষ্ণকথা আর পুরাণ থেকে।
তিনটি দ্বারপথের মাথায় তিনটি বড় প্রস্থে, কার্ণিশের নীচে তিন সারিতে আর দেওয়ালের দু,দিকের কোনাচ অংশের দুটি খাড়া সারিতে ফলকগুলি স্থান পেয়েছে। পশু মৈথুনের একটি ফলক আছে মন্দিরের পশ্চিম দিকের দেওয়ালে।

মন্দিরের মালিকানার হাতবদল আর জমিদারী প্রথার বিলোপ—এই দুইয়ের অভিঘাতে বহু কাল হোল মন্দিরটি পরিত্যক্ত। দেবতা নাই গর্ভগৃহে। অবহেলা, অনাদর আর অত্যাচার-অনাচারের মূর্ত প্রতীক মন্দিরটি ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে পরিপূর্ণ ধ্বংসের দিকে।
একটি প্রতিষ্ঠা-ফলক আছে মন্দিরে। তা থেকে জানা যায়, দাসপুর থানার দাসপুর গ্রামের সূত্রধর হরিচরণ দাস মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন। প্রতিষ্ঠা হয়েছিল বাংলা ১২৭৪ সনে।
কৃতজ্ঞতা স্বীকারঃ শ্রী রবীন্দ্রনাথ ভৌমিক, অবসরপ্রাপ্ত রাজস্ব আধিকারিক– তেমাথানি, সবং। শ্রী প্রদীপ রাউত—মধ্যবাড়, পিংলা। শ্রী শঙ্কর অধিকারী—করকাই।
জাতীয় সড়ক মুম্বাই রোডের ডেবরা কিংবা হাওড়া-খড়্গপুর রেলপথের বালিচক স্টেশন থেকে দক্ষিণমুখী পথে ১১ মাইল স্টপেজ। এবার মোটরেবল রাস্তায় ৩ কিমি পূর্বে করকাই গ্রাম।

- Advertisement -
Latest news
Related news