Wednesday, June 19, 2024

IIT Kharagpur: আইআইটি খড়গপুরে বড় জয় বামপন্থীদের! জয় আসল সেই রবির হাত ধরেই

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: জোর করেই রাতারাতি পরিবর্তন করা হয়েছিল আইআইটি খড়গপুরের(IIT Kharagpur) নবনির্মিত মাল্টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের নাম। ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের বদলে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর নামে রাখা হয়েছিল। প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছিল আইআইটির বহু প্রাক্তনী। আইআইটি কর্মচারীদের মধ্যেও দানা বেঁধেছিল ক্ষোভ কিন্তু সেই ভাবে প্রতিবাদে সোচ্চার হতে দেখা যায়নি অ-বামপন্থী পরিচালিত আইআইটি খড়গপুর এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের কর্তা ব্যক্তিদের মধ্যে। আইআইটি কর্তৃপক্ষের ধামাধরা বলে ইউনিয়ন কর্তাদের বিরুদ্ধে দানা বাঁধা সেই ক্ষোভ শেষমেশ উগরেই দিলেন কর্মীরা। বৃহস্পতিবার আইআইটি খড়গপুর (IIT Kharagpur) এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের ভোটে পরাস্ত হল অবামপন্থী বলে পরিচিত জোট। ১১বছর পর ফের ইউনিয়নের দখল নিল বামপন্থীরা।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের ফল ঘোষণার পর দেখা যায় ইউনিয়নের অফিস বেয়ারা বা কর্মকর্তা নির্বাচনে প্রধান চারটি আসনেই জয় পেয়েছেন বামপন্থী প্রার্থীরা। সভাপতি, সহ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ পদে জয়ী হয়েছেন তাঁরা। অন্যদিকে ২টি যুগ্ম সম্পাদক পদে জয় পেয়েছে অবামপন্থী জোট। যদিও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কো-অপারেটিভ আইন মোতাবেক এই নির্বাচনে ঠিক রাজনৈতিক রঙ নিয়ে এই প্রতিদ্বন্দিতা হয়না। তবুও অরাজনৈতিক প্রচ্ছদের আড়ালে এখানে রাজনৈতিক ভাবনার অনুসারেই এখানে প্রার্থীরা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে থাকেন আর সেই মত এখানে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়ে ছিল দুটি মূল প্যানেলের মধ্যে। একদিকে ছিলেন বামপন্থী ভাবনার অনুসারীরা বিপরীতে অবামপন্থীরা।

দুপক্ষই ওই ৬টি আসনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অর্থাৎ লড়াই হয়েছে একের বিরুদ্বে একের বা ওয়ান ইচটু ওয়ানে। জানা গেছে আইআইটি খড়গপুরের মোট ৬৩৪ জন কর্মচারী ভোট দানের অধিকারী ছিলেন যার মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ৫৬৪জন। প্রত্যেকেই ৬টি করে ভোট দিয়েছেন ৬জন কর্মকর্তাকে নির্বাচিত করার জন্য। সেই ভোটের নিরীখে বামপন্থীদের পক্ষ থেকে
সাধারণ সম্পাদক পদে রবিশঙ্কর শুকুল, সভাপতি পদে সৌমিক বসু,সহসভাপতি পদে পি রঘু এবং কোষাধ্যক্ষ পদে যমুনা প্রসাদ জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে সহ সম্পাদক পদে বিপরীত শিবির থেকে যুগ্ম সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন দেবব্রত মল্লিক ও অনির্বান পাল।

আইআইটি কর্মচারীদের সূত্রে জানা গেছে লড়াইটা কর্মচারীদের মধ্যে হলেও আইআইটি কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন পদক্ষেপ,কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন নীতি এই লড়াইয়ের মধ্যে চলে আসে। কর্মচারীদের আর্থিক ও সামাজিক সহায়তা, কর্ম নিশ্চয়তা ইত্যাদি নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন কতটা সফল হয়েছে ইত্যাদি নানাবিধ বিষয় উঠে আসে তর্ক বিতর্ক এবং প্রচারে। যেমনটা এবার উঠে এসেছিল কর্মীদের সার্বিক স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে ইউনিয়ন নিজ নিজ গোষ্ঠী স্বার্থকেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছে, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আপোষ করে নিজ নিজ গোষ্ঠীর কর্মীদেরই সুবিধা পাইয়ে দিয়েছে। উঠে এসেছে আইআইটিতে ক্রমবর্ধমান আউট সোর্সিংয়ের নামে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মীপদ গুলো ক্রমশ বিলুপ্ত করে দেওয়া এমনকি আইআইটির ভেতরে গেরুয়াকরনের প্রবণতা বাড়তে থাকার মত বিষয়গুলিও। আর সেই কারণেই এই নির্বাচনের হুইস্পারিং ক্যাম্পেনিংয়ে উঠে এসেছিল হাসপাতালের নাম বদলের বিষয়টিও।

বামপন্থীদের এই জয়ের পেছনে অবামপন্থী জোটের মধ্যে ভাঙনও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। একটি অপেক্ষাকৃত একটি তরুণ অংশ এবার ভোটের আগেই যোগ দিয়েছিল বামশিবিরে নির্বাচন প্রচারে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেন। পাশাপাশি কৃতিত্ব সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী রবিশঙ্কর শুকুলের। এক যুগ আগে এই রবিশঙ্কর শুকুলের হাত ধরেই জয় পেয়েছিল বামপন্থীরা। ইউনিয়ন পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা, বাম ডান নির্বিশেষে কর্মচারীদের পাশে দাঁড়ানো এই সর্বদা হাসিমুখে থাকা মানুষটি সহজেই জিতে নিয়েছেন কর্মীদের মন। একসময় দাপটের সঙ্গে মেদিনীপুর কলেজে বাম ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সেই রবিই ফের হতে চলেছেন আইআইটি কর্মচারী আন্দোলনের মুখ।

- Advertisement -
Latest news
Related news