Wednesday, May 22, 2024

Buddhadeb Guha: চান ঘরে গান থামিয়ে চলে গেলেন বুদ্ধদেব গুহ, আজ বাঙালির মনে মনে অরণ্য নিধন

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: খবরটা পাওয়ার পর কারও কারও মনের ভেতর থেকে হয়ত বা একটা একটা করে বনস্পতি খসে পড়বে। সে আওয়াজ কেউ পাবেনা। শুধু যার যাবে সেই পাবে। ঠিক যেমনটা রবিবার রাতে দক্ষিণ কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে নিঃশব্দে খসে গেল আরও একটা নক্ষত্র, ক’দিন আগেই গৌরী ঘোষ চলে যাবার বেদনা বাতাস মিলিয়ে না যেতে যেতেই। চলে গেলেন বুদ্ধদেব গুহ, রবিবার।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

এর আগে ৩৩দিন করোনার সাথে লড়াই করে বাড়ি ফিরেছিলেন। ততদিনে বেশ কয়েকবার তাঁর মৃত্যুর গুজব রটে গিয়েছিল কিন্তু ফিরে এসে বলেছিলেন, এখুনি ফুরিয়ে যাবনা! না, ফুরিয়ে গেলেন কোথায়? শুধু তো চলে গেলেন। যে হৃদয় নিয়ে এত টপ্পা আর ঠুংরি গেয়ে, চলে গেলেন সেই হৃদরোগে। ৮৫ বছরে থেমে গেলেন ঋজুদা। বাঙালির মনে মনে তাই কী আজ শুধুই অরণ্য নিধন?

বিভূতিভূষণের পর বাঙালির মনে এত অরণ্য আর কেউ রোপন করেনি। বাংরিপোসি, ম্যাকলাক্সিগঞ্জ, পালাম, নেতারহাট, কোডার্মা, রুমান্ডি একের পর এক জঙ্গল তুলে এনে রোপন করে গেছেন বাঙালির মনে আর সর্বত্রই এক নগ্ননির্জনতা, সর্বত্রই একা একা নিঃশব্দ অরণ্যযাপন। তাই তাঁর মহাপ্রস্থানের পর আজ বুঝি একা একা গাছ গুলি ভেঙে পড়ে। সমস্ত অরণ্য সরে গিয়ে জায়গা করে নেয়, জঙ্গল মহল, বাবলি, মাধুকরী, কোজাগর, হলুদ বসন্ত, একটু উষ্ণতার জন্য, কুমুদিনী, খেলা যখন, সবিনয় নিবেদন, সমুদ্র মেখলা, সাঝবেলাতে,সুখের কাছে, চারপাশ, ধুলোবালি, পামরি, কোয়েলের কাছে, খেলা যখন,দূরের দুপুর,
‘চানঘরে গান’ আরও কত শত প্রেম কথামালা।

নিষিদ্ধ কিন্তু পবিত্র সেই সব প্রেম একেকটি সাবলকত্বকে নির্মাণ করে দিয়ে যায়। মনের গহন অরণ্যে বুকের আঁচল খসিয়ে ছুটে ছুটে যায় খুশি, সুখী বৌদি,মারিয়ানা, টিটি, টুঁই, কুর্চিরা। প্রত্যেকেই একেকজন নারী, সবাই যে মার কাটারি সুন্দরী এমনটা নয় কিন্তু প্রত্যেকেই যে যার মত স্বতন্ত্র, স্বাধীন। যেন সব্বাই স্বয়ংবরা, জিতে নিতে হবে।

‘হলুদ বসন্ত’ উপন্যাসের জন্য ১৯৭৬ সালে তিনি পান আনন্দ পুরস্কার। কিন্তু তারপরেও আনন্দবাজার কিনতে পারেনি তাঁকে। বাংলা সাহিত্যে শুধু শাসন করবে আনন্দবাজার। যা লিখবেন, শুধু আমাদের জন্যই লিখবেন এমন শর্ত মানতে রাজি ছিলেননা বাঙালির ঋজুদা। বন্দুকের মতই তাই কলম উঁচিয়ে নিজের স্বাধীন সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছেন। আর তাঁর রাজত্বের প্রজা হওয়ার জন্য হুড়মুড়িয়ে পায়ে পড়েছে বাঙালির যৌবন।

নিজের জন্য নির্মাণ করে গিয়েছিলেন পলাশিতলা, আজ সেখানে বসেই বলে গেলেন, আর কেউনা জানুক আমি টাকার জন্য লিখিনা, লিখতে ভালো লাগে, তাই লিখি। যেদিন ভালো লাগবেনা সেদিন লেখা ছেড়ে দেব, ঠিক চুনীর মত, চুনী যেমন ফুটবল ছেড়ে দিয়েছিল। তাঁর গান যাঁরা শুনেছেন পুরাতনি থেকে রবীন্দ্র সঙ্গীত কী সাবলীল বিচরণ ছিল তাঁর। সেই গানও থামিয়ে দিয়ে গেলেন।

- Advertisement -
Latest news
Related news