Sunday, April 14, 2024

Sabang: তৃনমূল সভাপতিকে তোলা না দেওয়ায় জমি কেনা বেচা বন্ধের অভিযোগ সবংয়ে! হাত-পা-ভেঙে দেওয়ার হুমকি, নালিশ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে, অভিযোগ অস্বীকার নেতার

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: নিজের জমি নিজে বিক্রি করবেন কিন্তু তার উপায় নেই। তোলা দিতে হবে তৃনমূল কংগ্রেস নেতাকে। আর তোলা না দিলে জমি বিক্রি তো বন্ধই সঙ্গে বন্ধ চাষবাস, পুকুরে মাছ ধরা। আর সাথে হুমকি হল, কোথাও কোনও অভিযোগ জানানোর চেষ্টা করলে হাত-পা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার। পশ্চিমবাংলার এই তোলা সংস্কৃতি যদিও নতুন কিছু নয়। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে শুরু করে সরকারি চাকরি সর্বত্রই তোলা আর কাটমানি সমান ভাবেই চলছে। মাঝে মাঝে এই ওপেন সিক্রেট এতটাই দৃষ্টিকটু হয়ে পড়ছে যে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রকাশ্যে ধমক দিতে হচ্ছে নিজের দলের নেতাদের। এবার পশ্চিম মেদিনীপুরের সবং থেকে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর কাছেই অভিযোগ গেল। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাসকদলের নেতা।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

সবং থানা এলাকার লুটুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা সেক মহম্মদ আলি জিন্নাহ দাবি করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি তিনি এই অভিযোগ করেছেন, সবংয়ের বিডিও,ওসি, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিকেও।জিন্নাহ-র অভিযোগ, ২০১৪ সালে তাঁর পিতা সেক আব্দুল রহিমের মৃত্যুর পর পিতার সম্পত্তি তিনি, তাঁর মা এবং আমার দিদি ও বোন ওয়ারিশ মূলে সম্পত্তি পেয়েছেন। সবংয়ের দন্ডরা মৌজার ১৬৪ দাগে ১৫ ডেসিমেল সেই জমি তাঁরা নিজস্ব প্রয়োজনে বিক্রি করবেন বলে দণ্ডরা গ্রামেরই বাসিন্দা সেক আব্দুল কাহারের সাথে বায়না নামা করেন এবং অগ্রিম বাবদ পাঁচ হাজার টাকা নেন। কিন্তু দন্ডরা গ্রামের পঞ্চায়েতের স্বামী আজাদ আলী খান যিনি কিনা তৃণমূল কংগ্রেসের ৩ নং অঞ্চলের অঞ্চল সভাপতি সহ কয়েকজন তাঁর উপর চাপ সৃষ্টি করে যে ঐ সম্পত্তি বিক্রয় করিলে এক লক্ষ টাকা ওই ব্যক্তিদের দিতে হবে।

জিন্নাহ-র অভিযোগ, “আমরা এক লক্ষ টাকা দিতে অস্বীকার করিলে উক্ত ব্যক্তিরা টাকা না পেলে সম্পত্তি বিক্রয় করিতে দেবে না বলে প্রকাশ করে এবং ক্রেতা সেক আব্দুল কাহার – কে ওই সম্পত্তি খরিদ করতে নিষেধ করিয়াছে। এবং আমাদের জমিতে চাষ করা বন্ধ করে দিয়েছে এবং আমাদের পুকুর থেকে মাছ তুলতে দিচ্ছে না। আমি গ্রামে ঢুকলে আমাকে প্রানে মেরে ফেলার হুমকি দিতেছে এবং উক্ত ব্যক্তিরা আরও প্রকাশ করে যে, আমি যদি এই তোলাবাজদের বিরুদ্ধে আমি কোথাও যদি অভিযোগ জানাই তাহলে আমাকে বাড়ী থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধোর করে হাত পা ভেঙ্গে দিয়ে আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পাঠিয়ে দেবে। । আমি নিম্নোক্ত প্রভাবশালী তোলাবাজ ব্যক্তিদের এই দাবীর কারনে প্রচন্ড মানসিক চাপে রয়েছি এবং আমার মানসিক ভারসাম্যহীনা বোনের চিকিৎসা টাকার অভাবে করাতে পারছি না।”

ওই জমি যিনি কেনার জন্য পাঁচ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়েছিলেন, সেই আব্দুল কাহারও এই অভিযোগের সমর্থনে জানিয়েছেন, ” হ্যাঁ, তৃনমূল অঞ্চল সভাপতি ও অন্য কয়েকজন আমাকে বলেছেন যে আপাতত: আমার বায়না করাজমি কেনা যাবেনা।” যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূলের অভিযুক্ত অঞ্চল সভাপতি আজাদ আলি বলেছেন, ” এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। যার জমি সে বিক্রি করবে এতে আমরা বাধা দিতে যাব কেন? আমরা শুধু ওই ব্যক্তিকে বলেছি যে তার বিয়ে করা প্রথম স্ত্রী ও তাঁর সন্তানেরা খুবই দুঃসহ অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। জমি বিক্রির টাকা থেকে তাঁদের যেন কিছুটা টাকা দেওয়া হয়।”

- Advertisement -
Latest news
Related news