Monday, April 15, 2024

Tamluk: রাত পোহালেই জেলায় অভিষেকের মহাসমাবেশ! তার আগেই বিধায়কের নামে কেচ্ছা আর দুর্নীতির সাতকাহন জানিয়ে তমুলক জুড়ে গোছা গোছা লিফলেট

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: আর মাত্র কয়েকঘন্টা! শনিবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলদিয়ায় তৃনমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মহাসমাবেশ। হলদিয়ার রানীচক ময়দানের সেই সমাবেশ লক্ষাধিক মানুষকে উপস্থিত করাতে উঠে পড়ে লেগেছেন দলের তমলুক ও কাঁথি সাংগঠনিক জেলার দুই নেতৃত্ব। জেলায় হাজির পাঁচ পাঁচ জন মন্ত্রী কিন্তু তার আগেই তাল কাটল জেলা সদর তমলুক জুড়ে ছড়ানো গোছা গোছা পোস্টার। নন্দকুমার ব্লক তৃনমূল কংগ্রেস বাঁচাও কমিটির নামে ছড়ানো সেই লিফলেটে নন্দকুমার কেন্দ্রের বিধায়ক ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ সদস্যার প্রেম কাহিনী ছাড়াও হদিস দেওয়া হয়েছে বিধায়কের বিভিন্ন জায়গায় কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির এবং চাকরি দেওয়ার নাম করে কোটি কোটি টাকা তোলার অভিযোগও। আর এও উল্লেখ করা হয়েছে যে প্রেমিকা জেলা পরিষদ সদস্যার জন্য বিধায়ক নাকি ২০লক্ষ টাকার গহনা কিনে দিয়েছেন একটি বিখ্যাত জুয়েলার্স সংস্থা থেকে।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

শুক্রবার এমনই এক লিফলেট তমলুক শহরের বিভিন্ন অংশে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শুক্রবার একটি মোটর বাইকে করে তমলুক শহরের বিভিন্ন মোড়ে, চৌরাস্তায়, বর্গভীমা মন্দির পাড়া, বড়বাজার এলাকায় ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এই লিফলেট যা নিয়ে পান-চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়ার মোড়ের আড্ডা সরগরম। গুঞ্জন চলছে তমলুকের সর্বত্রই। লিফলেটের শিরোনাম সুকুমার ও শিবানীর প্রেম কাহিনী। বলাবাহুল্য এখানে সুকুমার বলতে নন্দকুমার বিধানসভা ক্ষেত্রের বিধায়ক সুকুমার দে এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ সদস্যা শিবানী দে কুন্ডুর কথা বলা হয়েছে। লিফলেটে উল্লেখও করা হয়েছে তাঁদের নাম। ওই লিফলেটে উল্লেখ করা হয়েছে, চাকরি দেওয়ার নাম করে এলাকার যুবক-যুবতীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা তুলেছেন বিধায়ক এবং সেই টাকার একটি অংশ দিয়ে জেলা, জেলার বাইরে এমনকি কলকাতায় ওই জেলা পরিষদ সদস্যার পরিবারকে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি কিনে দিয়েছেন।

‘প্রেমিকা’ জেলা পরিষদ সদস্যাকে কোথায় কত কোটি টাকার সম্পত্তি কিনে দিয়েছেন তারও একটি বিবরণ দেওয়া হয়েছে লিফলেটে। সেই বিবরণ অনুযায়ী ঝাড়গ্রাম জেলায় ২কোটি টাকার জমি, তমলুক শহরের পুরানো ডিএম অফিসের পেছনে চককামিনা মৌজায় ২কোটি টাকার জমি ছাড়াও নন্দকুমার বাজার সংলগ্ন মহম্মদপুর এলাকায় ৫০লক্ষ টাকার জমি কেনা হয়েছে জেলা পরিষদ সদস্যার পরিবারের নামে। অভিযোগ আরও যে কলকাতা মহানগরীতে বিধায়ক ৩ কোটি টাকার ফ্ল্যাট কিনেছেন ‘প্রেমিকা’র পরিবারের নামে। পাশাপাশি ‘প্রেমিকা’র জন্মদিন উপলক্ষ্যে বিধায়ক পি সি চন্দ্র জুয়েলার্স থেকে ২০লক্ষ টাকা মূল্যের সোনার গহনা উপহার দিয়েছেন।

ওই লিফলেটে এও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিধায়ক সুকুমার দে প্রতি ছ’মাস অন্তর তাঁর মহার্ঘ্য গাড়ির চালক পরিবর্তন করেন। কারন হিসাবে বলা হয়েছে যে, তিনি চালকদের দিয়ে ‘তোলা’ তোলার কাজ করেন তাই বেশিদিন একই চালক রাখতে চাননা। পাশাপাশি চালকদের তিনি বেতন না দিয়েই বরখাস্ত করে দেন এমনই অভিযোগ আনা হয়েছে ওই লিফলেটে। উল্লেখ্য বিধায়ক এবং জেলা পরিষদ সদস্যা দুজনেই নন্দকুমার থেকে নির্বাচিত হলেও লক্ষণীয় ভাবে লিফলেট ছড়ানো হয়েছে ১১ কিলোমিটার দুরে জেলা সদর তমলুকে। শনিবার অভিষেকের সভার কয়েকঘন্টা আগে ছড়ানো লিফলেটের পেছনে আদতে দলেরই একটা অংশ যে সক্রিয় এ ব্যাপারে সন্দেহ নেই যদিও বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্যই মেলেনি বিধায়ক বা জেলাপরিষদের সদস্যার তরফে।

- Advertisement -
Latest news
Related news