Monday, May 20, 2024

POCSO Punshid Belda : ৪বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণের ঘটনায় ২০বছরের জেল বেলদার যুবকের! খুশি নির্যাতিতার পরিবার

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনায় নজির বিহীন সাজা ঘোষণা করলেন মেদিনীপুর জেলা আদালত। বিচারক ২০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ঘোষণা করেছেন দোষি যুবকের জন্য। ৫ বছর আগে প্রতিবেশী এক ৪ বছর বয়সী শিশুকন্যাকে ধর্ষণ করেছিল ওই যুবক। ঘটনাটিকে জঘন্য ঘৃণ্যতম অপরাধ বলে মনে করে বিচারক এই চূড়ান্ত ঘোষণা করেছেন বলেই জানা গেছে। দণ্ডপ্রাপ্ত ওই ধর্ষকের নাম দীনেশ অধিকারী (২৫)।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

এই মামলার সরকারি আইনজীবী স্বর্ণেন্দু পরিয়াল জানিয়েছেন, ঘটনাটি ঘটেছিল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বেলদা থানার এলাকার একটি স্থানে। দিনটি ছিল ২০১৭ সালের ২১ জুলাই। নাবালিকা বালিকাটির মা তাঁর শিশুকন্যাটিকে প্রতিবেশীর বাড়িতে রেখে বাড়ির কাজ সারছিলেন। এরপর কাজ শেষে ওই নাবালিকার মা ওই যুবকের বাড়ি থেকে মেয়েকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। কিছুক্ষন পর হঠাৎই তিনি লক্ষ্য করেন, তাঁর নাবালিকা মেয়ে ঠিক মতো বসতে পারছে না, ছোট্ট মেয়েটি চলতেও পারছে না ঠিক করে! এরপরই, মেয়েকে জিজ্ঞাসা করলে চার বছরের নাবালিকা মেয়ে ঘটনাটি জানায়।

সরকারি আইনজীবী জানান, শিশুকন্যাটিকে বেলা ১০টা নাগাদ ওর মা ধর্ষকের মায়ের কাছে রেখে আসেন। ১২টা নাগাদ মেয়েটিকে আনার জন্য গিয়ে যখন তাকে কোলে করেছিল তখনই মেয়েটি যন্ত্রনায় কঁকিয়ে ওঠে। পরে হাঁটাতে গেলেও দেখে মেয়েটি হাঁটতে পারছেনা। এরপরই মায়ের সন্দেহ হয় যে কিছু একটা হয়েছে। তখনই মেয়েকে জিজ্ঞাসা করতে মেয়েটি মা-কে জানায় যে, ওই যুবক দরজা বন্ধ করে, মুখে চাপা দিয়ে তাকে শারীরিক ভাবে ‘অত্যাচার’ করেছে। এবং ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য বলে। ফলে মেয়েটি প্রথম দিকে কিছু বলতে পারেনি। ঘটনা জানার পরই বেলদা থানায় অভিযোগ দায়ের করে নির্যাতিতার পরিবার।

বেলদা পুলিশ ওইদিনই গ্রেপ্তার করে অভিযুক্ত যুবককে। মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয় এবং দেখা যায় তার গোপনাঙ্গে ক্ষত রয়েছে। রক্তক্ষরণ হয়েছে। সেই দিন থেকেই জেল হেফাজতেই ছিল অভিযুক্ত যুবক। ডাক্তার, পুলিশ, প্রতিবেশী সহ মোট ১০জনের স্বাক্ষ্য নেওয়া হয় এই মামলায়। সবকিছু বিচার করার মেদিনীপুর পকসো (Protection of Children from Sexual Offence) আদালতের বিচারক তানিয়া ঘোষ বৃহস্পতিবার আসামীকে দোষি সব্যস্ত করেছিলেন। শুক্রবার তাঁকে ২০বছরের জেলের পাশাপাশি ২০হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩মাস জেল ঘোষণা করা হয়েছে।

আদালত সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন ওই নাবালিকার পরিবারকে ৩লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য। জেলা আদালতের এই রায়ে খুশি নির্যাতিতার পরিবার। বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে নাবালিকার সাথে এমন ঘৃণ্য এবং জঘন্যতম অপরাধের ঘটনায় এবং দীর্ঘ কয়েক বছর মামলার পর অবশেষে বিচারকের রায়ে আসামীর কঠিন শাস্তি হওয়ায় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছে নাবালিকার পরিবার।

- Advertisement -
Latest news
Related news