Wednesday, May 22, 2024

Mystery Fever Claim 12: ৩০দিনে অজানা জ্বরে মৃত্যু ১২জনের! বেছে বেছে যেন মহিলাদেরই মারছে জ্বর, উত্তর প্রদেশের গ্রাম ছেড়ে পালাচ্ছেন মানুষ

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: শনিবার (১৮ই সেপ্টেম্বর)ও মৃত্যু দেখেছে গ্রাম। মারা গেছেন ৪০বছরের এক গৃহবধূ গীতা সিং। গীতা সিং গ্রামের গ্রাম প্রধানের কাকিমা। অন্যদের বারণ না শুনেই গরু বাছুর গুলো দেখার জন্য গীতা থেকে গেছিলেন গ্রামে। তারপর কয়েক দিনের ধুম জ্বরের পর শনিবার মৃত্যু। গত ২০শে আগস্ট কুরাসৌলি গ্রামে প্রথম মৃত্যু হয়েছিল অজানা জ্বরে। উত্তরপ্রদেশের কানপুর নগর জেলার কল্যাণপুর ব্লকের কুরাসৌলি গ্রামে অজানা জ্বরে সেই প্রথম মৃত্যু। মৃত্যু হয়েছিল ১৪বছরের কিশোরী তান্নু প্রজাপতির। তারপর থেকে মৃত্যু মিছিল চলছেই এবং আশ্চর্য হওয়ার বিষয় সিংহভাগ মৃত্যুই মহিলার!

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

উত্তরপ্রদেশে স্বাস্থ্য দপ্তর যে তালিকা দিয়েছে তার দিকে তাকানো যাক। শুরু হয়েছিল তান্নুকে দিয়ে। এরপর পার্বতী(৬২), জুলি (২৩), সোনালী(১৯), লক্ষী প্রজাপতি (৪০), লক্ষী দেবী (৪৫), চামা তিওয়ারি (২৮), উর্মিলা (৩৫), নির্মলা তিওয়ারি(৬৫), বৈষ্ণবী (১১). মাত্র ২জন পুরুষ মারা গেছেন যাঁরা হলেন শিব রাম প্রজাপতি (৫৬) এবং মান সিং( ৫৫). শেষ মৃত্যুর কথা আগেই বলা হয়েছে, শনিবার গীতা সিংয়ের।

খুব স্বাভাবিক ভাবেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামে এবং ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছেন গ্রামবাসীরা। বিশেষ করে মহিলা ও শিশুদের পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে অন্যত্র। কয়েকটি বাড়িতে কেবল রয়ে গিয়েছেন পুরুষরা। মহিলা ও শিশুদের অন্যত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বেশির ভাগ বাড়িই তালাবন্দি। গ্রামজুড়ে কী এক সর্বনাশের ছায়া। অথচ পাশের গ্রামগুলিতে কোথাও কিছু নেই, পরিস্থিতি পুরো স্বাভাবিক। বেছে বেছে কেন জ্বরের রোষ এই গ্রামেই পড়ছে আর কেনই বা মহিলাদের ওপরই জ্বরের দাপট তা ভেবে কুলকিনারা পাচ্ছেননা মানুষ। তাই আপাতত গ্রাম ছেড়ে পালানোর হিড়িক।

  কাকিমা গীতার মৃত্যুর পরে গ্রামপ্রধান অমিত জানিয়েছেন, ”বাড়িতে আমার স্ত্রী ও সন্তানরা নেই। অন্য আত্মীয়দের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছি সকলকে। কিন্তু আমাকে থেকে যেতে হয়েছে গৃহপালিত মোষগুলির সেবা করার জন্য। যদি গবাদি পশু ও চাষবাসের ব্যাপারটা না থাকত, গ্রাম এতদিনে একেবারে জনশূন্য হয়ে পড়ত। এমন একটাও বাড়ি নেই যেখানে কেউ ওই অজানা জ্বরে আক্রান্ত হননি। তাই অনেকেই বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন।”

কানপুর নগর জেলার অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সুবোধ প্রকাশ এই মৃত্যুর কথা স্বীকার করে নিয়ে বলেছেন, “মৃত্যুর প্রকৃত কারন খোঁজার চেষ্টা করছি আমরা। ৩ সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়েছে। মৃতদের অধিকাংশরই ডেঙ্গি বা ম্যালেরিয়া পরীক্ষা করা হয়নি। তবে যাঁদের এখন পরীক্ষা করা হচ্ছে তাঁদের মধ্যে কারও কারও শরীরে ডেঙ্গির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে যদিও কারুরই ম্যালেরিয়া পাওয়া যায়নি।” যদিও তারই পাশাপাশি অন্যান্য ভাইরাসের প্রকোপও রয়েছে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

কিন্তু মহিলাদেরই এত মৃত্যু কেন? উত্তরটা যদিও চিকিৎসকরা দেননি। তবে সমাজবিজ্ঞানীরা দিয়েছেন। সমাজ মহিলাদের এতটাই অনাহার আর অপুষ্টিতে রেখে দিয়েছে যে রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষমতাটাই হারিয়ে ফেলেছেন তাঁরা। মহিলাদের পুষ্টির অবস্থা এতটাই উদ্বেগজনক যে বৈষ্ণবী বলে ১১ বছরের মেয়েটিকে বাঁচানোর জন্য তাঁর পরিবার স্থানীয় মহাজনের কাছ থেকে ধার করে ১লক্ষ টাকা খরচ করেও বাঁচাতে পারেনি।
কেবল উত্তরপ্রদেশ নয়, সারা দেশেই আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে এই অজানা জ্বর। অন্তত ৫টি রাজ্যের পরিস্থিতি বেশ খারাপ। এদের মধ্যে গুরুতর অবস্থা মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশ।

- Advertisement -
Latest news
Related news