Monday, June 17, 2024

কুম্ভ কথা ( পর্ব – ৩ )

- Advertisement -spot_imgspot_img

কুম্ভ কথা- ৫


আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

ঝুঁসি, আরাইল এর দিকে নির্জন বাসী কিছু সিদ্ধ পুরুষ থাকেন । কুম্ভ নগরীর কোলাহল থেকে দুরে থেকে আপন মনে ব্যস্ত থাকেন সাধন ভজনে । ১নং পুল পার হয়ে আরো চার কিমি হেঁটে ২০ নং পুলের ঠিক পরেই ছতনাদ ঘাট । সেখানে থাকেন বিশ্মাত্মানন্দ সরস্বতী। প্রায় ১৫০০ জন গেরুয়া ধারীর গোয়াল সেথায়, সঙ্গে আরো হাজার দুয়েক গৃহী ভক্তের থাকা খাওয়ার বিপুল আয়োজন।
চললাম আরাইলের দিকে। আরো ৫ কিমি। ব্যস্ত মহাপুরুষেরা। মৌনি। একাকী। সাধন রত। একাগ্রচিত্ত, সৌম্য,মায়াময় চোখ। সম্ভাষণ জানি না। শুধু বলি প্রণাম। যজ্ঞকুন্ডে নিবিষ্ট চিত্ত হাত তোলেন শুধু।

কুম্ভ কথা- ৬


স্যার, এসেছেন নাকি? পরিচিত কণ্ঠ ঘুম থেকে তোলে। বিকেল চারটায় দেখা হয়।  শংকরাচার্য, মহামন্ডলেশ্বর, পীঠাধীশ্বর অধ্যুষিত ধর্ম সংসদে। জয় শ্রী রাম ধ্বনি তে মুখর ১০০০০ এর কার্পেট বিছানো সুসজ্জিত সভাগৃহ। সবার চাহিদা ছবির। কিন্তু কথা আর ছবি তে কুম্ভ ধরা যায় না।

অনুভব-অনুভূতি, লৌকিক-অলৌকিক, ভালো-মন্দ, রূপ-অরূপ, বিলাস-অভিলাষ, স্বপ্ন-স্বপ্নভঙ্গের  যন্ত্রণা, চাওয়া-পাওয়া, সব কিছু -আধ্যাত্মিকতা-ধর্ম-অধর্ম-অনাধাত্মিকতা-রাজনীতি সবকিছু নিয়েই সনাতন ভারতবর্ষ তার কোটি কোটি চরিত্র সমেত হাজির আপনাকে ভেলকি দেখাবে বলে।

গতবারে পাইলট বাবার আশেপাশে বসে থাকা বিদেশি -বিদেশিনীরা আজ রুদ্রাক্ষ গলায় বাবাজী- মাতাজী সেজে বসেছে, দেশি কুকুরের জন্য লম্বা লাইন- মিনি স্কার্ট গোরী চামড়ি রা শরীর দুলিয়ে বাবার সেবায় রত। এমনই একজন কে জিজ্ঞেস করা গেল, why are you here?
তাচ্ছিল্যে উত্তর মেলে bcoz it is here. Polotically correct উত্তর সন্দেহ নেই ।
ভাব জমালাম। সেই পুরানো গল্প। ধনী প্রেমিকার গুরুর কাছে শিষ্যত্ব নিলে যদি কাছাকাছি মেলে নরম শরীরটা। তারপর আইওয়ার কাছে গ্রামের দিকে একটা আশ্রম খুলে দিলে ওঁ উচ্চারণে ডলার পাউন্ড আপনা আপনি হেঁটে হেঁটে আসবে। তাই গলায় স্ফটিক রুদ্রাক্ষ গালে দাড়ি স্টিফেন দিগম্বর গিরি সেজে সনাতন ভারত কে বোঝার চেষ্টা করছেন।
হাস্যকর। এরা ফিরে যাবে, বই লিখবে, আমরা ওদের চোখে চিনব আমাদের ভারতকে, জানব আধ্মাত্মিকতাকে!ব্ল্যাক ক্যাট কমান্ডো, নিজস্ব দেহরক্ষী  , মার্সিডিজ  , কনভয় পরিবৃত তথাকথিত ধর্মগুরুদের চোখ ঝলসানো বৈভবে  পূর্ণ মেলার অর্ধেকটাই। এক খালসায় ভান্ডারা।  সকাল নটা থেকে শুরু হয়েছে।  পাঁচটাতেও লম্বা লাইন।  কোথাও কম্বল বিতরন।  সেখানেও ভীড়। তিন টিরাক কম্বল লায়ে হ্যায় ,শেঠজি। কুম্ভ মে দেবী দেওতা কিস রূপ মে আতে হ্যাঁয় কউন জানে। অগর উনকি মুহ্ সে একবার জয় নিকল জায়ে ,তো সমঝো লটারী লাগ গয়ী।  কম্বল চাহিয়ে কেয়া ? ওঁ নম শিবায়, ওঁ নমো নারায়ণ, ওঁ বাসুদেবায়, ওঁ গণপতায়, রাধে রাধে,  ইত্যাদি হরেক রকম সম্ভাষণে  অভ্যস্ত হয়ে হয় কুম্ভ চরতে এলে।  ভাব জমানোর সুবিধা হয়।

এক ঝোপড়ি থেকে বেরিয়েই মুখোমুখি হই উদভ্রান্ত বিহারী দম্পতির। দো লউকি টাঙালওবা হ্যায়..বাঁশ পে লটকালওয়া হুয়া ,বাবুজি,…পতা বাতা দো। সর্বনাশ । ঠিক তখনই ভুলেভটকে ঘোষণা – রতন কি আম্মা গাজিয়াবাদ কে রহনেবালী, আপ যাঁহা কঁহি ভি হো , আপকি ক্যাম্প মে চলে যাইয়ে…নিশান  নারিয়েল…রতন কি আম্মা….। চল্লিশ মিনিট ঘোরাঘুরির পর লম্বা বাঁশের উপর ঝোলানো লাউ দুখানা খুঁজে পাওয়া গেল। বয়স্ক দেহাতী দম্পতি পা ছুঁতে এলেন…দুপা পিছিয়ে দাঁড়াই….চোখের জলে দেহাতী দম্পতি চার হাত জড়ো করে- বাবুজি পরনাম।
-পরনাম। (ক্রমশ)

সমস্ত ছবি – লেখক
লেখক – শুভঙ্কর দত্ত 
- Advertisement -
Latest news
Related news