Monday, May 20, 2024

জীর্ণ মন্দিরের জার্নাল-১৩৮।। চিন্ময় দাশ

- Advertisement -spot_imgspot_img

জীর্ণ মন্দিরের জার্ণাল চিন্ময় দাশ
দামোদর মন্দির, দক্ষিণ ময়না (ময়না)
সবং থানার একেবারে দূরবর্তী প্রান্তের এক গ্রাম তিলন্তপাড়া। বিশাল অট্টালিকা, কাছারিবাড়ি, সাধু-সন্ন্যাসীদের জন্য অতিথিশালা, দুটি শিব মন্দির, আর কুলদেবতা জানকীবল্লভের মন্দির আছে মাইতিবংশের জমিদারদের। সেই বংশের পরম বৈষ্ণব এক ধার্মিক পুরুষ তুলসীরাম তাঁর কৌলিক ‘মাইতি’ পদবী ত্যাগ করে ‘দাস’ পদবী গ্রহণ করেছিলেন। সেইসাথে, তিলন্তপাড়ার জন্মভিটে ছেড়ে, চিরতরে ময়না থানার দক্ষিণ ময়না গ্রামে উঠে এসেছিলেন। নতুন করে জায়গীর নিয়ে, নিজের একটি জমিদারী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি। পূর্বাশ্রম তিলন্তপাড়ার মতই, এখানেও সাধু-সন্তদের জন্য সদাব্রত প্রচলন করেছিলেন।
একবার একদল নাগা সন্ন্যাসী গঙ্গাসাগর পরিক্রমার সময় এখানে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। নিজের নিজের আরাধ্য দেবতা থাকত প্রত্যেক সাধুর সাথেই। তাঁদের পূজায় একদিন ক্ষীর নিবেদন করা হয়েছিল প্রসাদ হিসাবে।
সেদিনই জমিদার স্বপ্নাদেশে জানতে পারেন, একটি শালগ্রাম ক্ষীরের নৈবেদ্যে অতিশয় সন্তুষ্ট হয়েছেন। তিনি জমিদারের ভিটেতেই থেকে যেতে চান।
প্রমাদ দেখা দেয়, শালগ্রাম আছে প্রত্যেক সাধুর সাথেই। কোন শিলাটি প্রীত হয়েছেন, তা জানা যাবে কী করে? তার বিধানও ছিল স্বপ্নের আদেশে– যে শালগ্রামটির মাথায় নীল বর্ণের ডুমো মাছি এসে বসবে, জমিদার যেন সেটিই গ্রহণ করেন।
সেই মতো, এক সাধুর ‘দামোদর’ নামের শালগ্রাম শিলাটি পাওয়া গিয়েছিল। বড় আকারের একটি মন্দির নির্মাণ করে, বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা আর সেবাপূজার প্রচলন করেছিলেন জমিদার তুলসীরাম দাস।
পূর্বমুখী ইটের মন্দিরটি শিখর-রীতিতে নির্মিত। বিমান, অন্তরাল, জগমোহন এবং (পরবর্তীকালে সংযোজিত) নাটমন্দির নিয়ে সোধটির গঠন। বর্গাকার জগমোহনটি বাংলা চার-চালা রীতির। চার দিকে চারটি খিলানের দ্বারপথ। মাথায় বেঁকি, আমলক, কলস, চক্র শোভিত।
বিমান সৌধটি সম্পূর্ণ কলিঙ্গ স্থাপত্যধারা অনুসরণ করে নির্মিত হয়েছে। স্বল্পোচ্চ ভিত্তিবেদী। বাঢ় অংশটি পা-ভাগ, তলজঙ্ঘা, বন্ধন, উপরজঙ্ঘা এবং বরণ্ড—নিয়ে পঞ্চকাম বিন্যস্ত। বাঢ় এবং গণ্ডী অংশ জুড়ে চার দেওয়ালেই সপ্তরথ বিন্যাস করা। শীর্ষক বা চুড়াটিও বেশ সুরচিত।
পরবর্তীকালে মন্দিরের সামনে একটি উন্মুক্ত নাট মন্দির নির্মিত হয়েছে।
ত্রিরথ বিন্যাস করা একটি তুলসী মঞ্চ আছে মন্দিরের সাথে। মন্দিরে কোন রকম অলঙ্করণ নাই। তবে, শ’আড়াই বছর আয়ু হলেও, আজও মন্দিরটি যেমন সুদর্শন, সেবাইত বংশের হাতে ততখানিই সযত্ন রক্ষিত। কালের নখরাঘাতের চিহ্নটুকুও নাই মন্দিরের নয়নাভিরাম দেহকাণ্ডে।
সাক্ষাতকারঃ সর্বশ্রী কিশোরী মোহন দাস, চন্দন দাস, দেবাশীষ দাস, অনুপম দাস, ক্ষুদিরাম দাস, যুগল কিশোর দাস, প্রবালকান্তি দাস, বাঁশরী মোহন দাস এবং শ্রীমতী অস্মিতা দাস (আইনজীবি)—দক্ষিণ ময়না।
পথনির্দেশঃ মেদিনীপুর শহর কিংবা বালিচক স্টেশন থেকে সরাসরি ময়না। কিংবা মেচেদা স্টেশন থেকে শ্রীরামপুর হয়ে ময়না যাওয়া যাবে। ময়না বাজার থেকে দেড় কিমি দূরে দাসবংশের এই মন্দির।

- Advertisement -
Latest news
Related news