Sunday, July 14, 2024

Tamluk CRPF Jawan : চোখের জলে ঘরের ছেলেকে বিদায় জানালো তমলুক! শহিদের জন্য কান্নায় বৃষ্টির চেয়েও অশ্রুসিক্ত পূর্ব মেদিনীপুর

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: ফেরার কথা ছিল ৪ঠা জানুয়ারি, ফিরলেন ২৫দিন আগেই। বড় অসময়ে ঘরে ফেরা, ঘরে ফেরা শেষবার। এরপর গ্রামের শশ্মানে বিলীন হয়ে যাবে দেহ! বৃহস্পতিবার নিম্নচাপ বলয়ে পূর্ব মেদিনীপুর, মেঘলা আকাশ আর ছিঁটে ফোঁটা বৃষ্টি হচ্ছে কোথাও কোথাও কিন্তু তারও চেয়ে বেশি কান্না তমলুকের, বিশেষ করে নীলকুণ্ঠ্যা, হরশঙ্করপুরের। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে কেন্দ্রীয় পুলিশবাহিনীর সাঁজোয়া গাড়িতে করে গ্রামের আঁকা বাঁকা পথ বেয়ে এসে হরশঙ্করপুরের গ্রামের দুয়ারে এসে পৌঁছালো নন্দলাল রানার দেহ, বৃহস্পতিবারের বারবেলায়। শহিদ জননী আর শহিদ জায়ার কান্না আর হাহাকারে কেঁদে উঠল গোটা হরশঙ্করপুর, সমগ্র
নীলকুণ্ঠ্যা।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

গ্রামে ঢোকার কয়েক কিলোমিটার আগেই জাতীয় পতাকা আর মোটর বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন কয়েকশ যুবক। যাঁর মোটর বাইক নেই, সে সাইকেল নিয়েই দাঁড়িয়ে। কেউ বা শুধু পায়ে হেঁটেই। কিলোমিটারের পর কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে হাজার হাজার মানুষ, শহিদ নন্দলালকে দেখার জন্য। কলকাতা থেকে আসা আধাসেনার আধিকারিক, শববাহী শকটকে তাই রাস্তা চেনার কষ্ট করতে হয়নি। ‘শহিদ নন্দলাল রানা অমর রহে’ আর ‘ভারত মাতা কি জয়’ বলে জাতীয় পতাকা ঊর্ধ্বে তুলে সেই সাঁজোয়া গাড়ি গুলিকে তমলুক থেকে হরশঙ্কর গ্রামে পৌঁছে দিল তারাই। বাংলার জওয়ান, তমলুকের তরুণের দল সবাই যেন আজ নন্দলাল হতে চায়।

যে পথে শকট চলেছে সেই পথের দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের চোখের জল বেয়ে মাটিতে পড়েছে। আকাশের সাধ্য কি অত জল ঢালে? হরশঙ্কর গ্রামে আছাড়ি পাছাড়ি কান্নায় শহিদ নন্দলাল রানার স্ত্রী আর বৃদ্ধা মায়ের। বাড়ির খুঁটি ধরে হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে ১৫ বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছেলে আর সবচেয়ে অবাক শহিদের ১৬মাসের শিশুকন্যা। বাবাকে নিয়ে এত মানুষ কেন? বাবা ঘুমিয়ে আছে কেন? বাবার যে খেলনা আনার কথা ছিল? প্রতিবেশী কাকিমা পিসির কোলে থেকে শুধুই বক বক প্রশ্ন।

মঙ্গলবার সকালে জম্মু-কাশ্মীরের লাদাখে কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার মধ্যেই লাইন অফ আ্যকচুয়াল কন্ট্রোল বরাবর টহল দিতে গিয়ে পাহাড়ি রাস্তা থেকে খাদে গড়িয়ে পড়েছিল ৪২ নম্বর ব্যাটেলিয়ান স্টাফের লাইনম্যান, জাওয়ান নন্দলাল রানার গাড়ি। সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ দুর্ঘটনা ঘটে। বার্তা পেয়েই ৪ জওয়ানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান সহকর্মী জওয়ানরা। বেলা ১২টা নাগাদ মৃত্যু হয় নন্দলাল রানার, বাকিরা এখনও মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন জম্মু-কাশ্মীরের সেনা হাসপাতালে। আগের দিন রাতেই স্ত্রীর ফোন থেকে ভিডিও কলে ১৬মাসের কন্যার সঙ্গে কথা বলেছেন!

বৃহস্পতিবার সূর্য ডোবার আগেই যথোচিত সম্মান ও মর্যাদায় স্থানীয় শশ্মানে সমাহিত করা হয় ৩৬ বছর বয়সী ভারত মাতার বীর সন্তান শহিদ নন্দলাল রানাকে। জেলা পুলিশ ও সিআরপিএফ আধিকারিকরা শেষ শ্রদ্ধা জানান। জওয়ানদের গগনবিদারি সমন্বিত গান স্যালুট আর বিউগলে বেজে ওঠা লাস্ট পাস, অজস্র মানুষের চোখের জলে জলে ওঠে চিতা। তার আগে শহিদের বুক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় জাতীয় পতাকা, তুলে দেওয়া হয় পরিবারের হাতে, শহিদ পরিবারের চিরন্তন স্মৃতি হয়ে থেকে যাবে ওই পতাকা।

- Advertisement -
Latest news
Related news