Sunday, July 21, 2024

Tragic Death: পশ্চিম মেদিনীপুরে ভিলেজ পুলিশের স্ত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যু! মেরে ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ, আটক ভিলেজ পুলিশ ও বাবা মা

- Advertisement -spot_imgspot_img

শশাঙ্ক প্রধান: একাধিক বিবাহবহিভূত সম্পর্কের জেরে স্ত্রীকে মেরে ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠলো এক ভিলেজ পুলিশ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে । ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে ওই ভিলেজ পুলিশের বাবা-মা র বিরুদ্ধেও। বৃহস্পতিবার রাতের এই ঘটনায় অভিযুক্ত ভিলেজ পুলিশ ও তাঁর বাবা-মা কে আটক করেছে পুলিশ।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে
অন্য মহিলার সাথে অভিযুক্ত ভিলেজ পুলিশ

ঘটানটি ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং থানার অন্তর্গত তেমাথানি এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে মৃত মহিলার নাম নীলিমা মাইতি(৩৩)। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা নাগাদ নিজের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় নীলিমার দেহ। নীলিমার বাবা মঙ্গল মাইতি সবং থানায় অভিযোগ দায়ের করে দাবি করেছেন তাঁর মেয়ে নীলিমাকে মারধর করার পর ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মৃত নীলিমার বাবা মঙ্গল দাস অভিযোগ করেছেন যে, বছর দশেক আগে তিনি অভিযুক্ত ভিলেজ পুলিশ সাথে মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন। আর বিয়ের পর থেকেই পন নিয়ে কারনে অকারণে নীলিমার ওপর অত্যাচার চালাত অভিযুক্ত ভিলেজ পুলিশ সুরজিৎ মাইতির বাবা মা গোপাল ও সন্ধ্যা। এরই মধ্যে সুরজিৎ ও নীলিমার একটি পুত্র সন্তানও হয় যার বর্তমান বয়স ৭ বছর।

অন্য আরেক মহিলার সাথে

যদিও তারপরও এই অত্যাচার থেমে থাকেনি। এই নিয়ে একাধিকবার দুইপক্ষের সালিসিও হয়েছে বলে জানা গেছে। মঙ্গল দাসের অভিযোগ একদিকে যখন শ্বশুরশাশুড়ির এই অত্যাচার তখন অন্যদিকে সুরজিৎ জড়িয়ে পড়ে একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে। আর সেই ঘটনা ঘটতে থাকে নীলিমার চোখের সামনে। প্রতিবাদ করলেই জুটত মারধর।

উল্লেখ্য সুরজিৎ মাইতির বাড়ি তেমাথানি এলাকার সলাগেড়্যা এবং নীলিমার বাপের বাড়ি ওই তেমাথানি এলাকারই লুটুনিয়াতে। জানা গেছে এই বিয়ের আগেও দুজনের মধ্যে প্রেম ছিল। পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে সামাজিক অনুষ্ঠান করেই বিয়ে হয় দু’জনের।

অন্য আরেক অবস্থায় ভিলেজ পুলিশ

বিয়ের কয়েকবছর পর থেকেই সুরজিৎ ফের একের পর এক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। যা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নিত্যদিনের অশান্তি লেগেই থাকত। একদিকে শ্বশুর-শাশুড়ির অত্যাচার অন্যদিকে স্বামীর উপেক্ষা এবং অত্যাচারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল নীলিমা। তারই মধ্যে ঘটে যায় এমন ঘটনা।

স্থানীয় বাসিন্দারাও জানিয়েছেন সুরজিৎয়ের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কথা। মাস কয়েক আগেই এক বিবাহিতা নারীর সঙ্গে সুরজিৎ হাতে নাতে ধরাও পড়ে। সুরজিতের পরিবার অবশ্য দাবি করেছে, আত্মহত্যাই করেছে নীলিমা। তাঁদের দাবি ঘটনার সময় বাড়িতে কেউই ছিলনা। স্থানীয় একটি মেলায় গিয়েছিল সুরজিৎয়ের দাদা-বৌদি এবং বাবা মা।

এই অবস্থায় পাওয়া যায় বধূকে

সুরজিৎ ও নীলিমার ছেলেকেও তাঁরা মেলায় নিয়ে গিয়েছিলেন কিন্তু নীলিমা মেলায় যেতে রাজি হয়নি। অন্যদিকে সুরজিৎ তখন তেমাথানি বাজারে আড্ডা দিচ্ছিলেন। নীলিমা মেলায় যেতে রাজি হয়নি। তিনি একাই বাড়িতে ছিলেন। মেলা থেকে ফেরার পর তার দেখতে পান নীলিমা নিজের ঘরে গলায় ওড়না দিয়ে ঝুলছে।

নীলিমা মাইতি

এদিকে ঘটনার খবর জানাজানি হওয়ার পরই ছুটে আসে নীলিমার বাড়ির লোকজন। তাঁদের দাবি নীলিমা গলায় ওড়না দিয়ে ঝুললেও তাঁর পা মাটিতে ঠেকে ছিল। এলাকার মানুষও প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। মানুষজন জড়ো হতে শুরু করে সুরজিৎয়ের বাড়ির সামনে। গনরোষ তৈরি হচ্ছে অনুমান করে ছুটে আসেন শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকরা। রাতেই বাড়ি থেকে তুলে আনা হয় সুরজিৎ ও তার বাবা-মাকে। বর্তমানে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে। এদিকে পুলিশের হাতে সুরিজিৎ য়ের যে মোবাইলটি এসেছে তাতে বেশ কিছু সেলফিতে দেখা গেছে অন্য মহিলার সাথে আপত্তিকর অবস্থায় রয়েছেন সুরজিৎ।

- Advertisement -
Latest news
Related news