Sunday, July 21, 2024

Kolkata Municipal Election: সিসিটিভি ক্যামেরায় কাগজ সেঁটে ভোট লুট কলকাতায়! পুরভোটে পুলিশের জগন্নাথ বেশ

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: রথের সময় জগন্নাথ দেব সাতদিনে সাতটি বেশ বা পরিধান ধারণ করেন। রাজা থেকে ভিখিরি সমস্ত বেশই ধারণ করেন তিনি। আষাঢ় মাস বা রথযাত্রা নয় তবুও নাকি কলকাতা পুলিশ খোদ জগন্নাথবেশ ধারণ করল পুরভোটের দিন। শনিবার রাতেই ভাইরাল হয়েছিল অডিও ক্লিপটা,’ খা..বাচ্চা কাল বুথে গেলে তোকে আর তোর মাকে…….’। বোঝাই যাচ্ছিল কী হতে চলেছে কলকাতা করপোরেশনের নির্বাচন।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

রবিবার সকাল থেকেই উৎসবের মেজাজেই ভোট লুট হচ্ছে বলে খবর আসতে শুরু করল চারদিক থেকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে ভোট লুটের নানা রকম জ্যান্ত ছবি। কোথাও বুথে গিয়ে ভোটার দেখছেন তাঁর ভোট দেওয়া হয়ে গেছে! তাঁকে প্রিসাইডিং অফিসারের সামনে কেউ একজন বলছেন, ‘আপনি তা’হলে অন্য কারও একটা ভোট দিয়ে দিন, আমরা ব্যবস্থা করে দেব।’

একটি বুথে জগন্নাথ বেশে পুলিশ। একজন পুলিশকে গিয়ে  জিজ্ঞাসা করছে, আপনার চোখের সামনে ভোট লুট হচ্ছে আর আপনি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছেন? পুলিশ অফিসার আমতা আমতা করছেন।

মুখ ফাটলেও ছাড়েননি লড়াই

সোশ্যাল মিডিয়ায় যখন ভোট লুটের এই সব জ্যান্ত ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে তখন মেনস্ট্রিম মিডিয়া শান্তিপূর্ন আর অবাধ ভোটদানের ছবি খুঁজতে ব্যস্ত। কাঁধে রাইফেল ঝুলিয়ে মুখ নামাচ্ছে পুলিশ। কী বলবে খুঁজে পাচ্ছেনা।

মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পেছনে ঘুরতে ঘুরতে মেইনস্ট্রিম মিডিয়া দেখতে পেয়েছে ‘উৎসবের মেজাজে ভোট দিচ্ছেন মানুষ।’ তখন যাদবপুরের ১০১ থেকে ১১০নম্বর বুথ পুরোপুরি গুন্ডাদের দখলে। তখন ১৮নম্বর ওয়ার্ডে প্রিসাইডিং অফিসারের অনুমতি নিয়ে তৃনমূল প্রার্থী সুনন্দ সরকারকে উৎসবের মেজাজে একটার পর একটা ভোট দিয়ে যাচ্ছেন এক তৃনমূল কর্মী। স্যোসাল মিডিয়ায় সেই ভিডিও পোষ্ট করে জানিয়েছেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

ওদিকে ‘শান্তিপূর্ন’ ভোটের মধ্যেই শিয়ালদহের টাকি স্কুলের সামনে বোমাবাজির ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বিস্ফোরণে এক যুবকের পা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত। খবর এসেছে খান্না হাইস্কুল ও বেলেঘাটাতেও বোমাবাজির অভিযোগ উঠেছে। মেইনস্ট্রিম মিডিয়া তখনও সরকারের আরও বেশি ‘বিজ্ঞাপন’ পেতে শান্তিপূর্ন ভোট খুঁজছে।

সোশ্যাল মিডিয়া তখন কলকাতা পুরসভার ৩৩নম্বর ওয়ার্ডের গুরুদাস কলেজে। ভোট লুটের মহড়া শেষ করে এবার আসল কাজে নামার পালা। প্রিসাইডিং অফিসার, ফাস্ট পোলিং, সেকেন্ড পোলিং হঠাৎ দেখলেন সিসিটিভি ক্যামেরা চালু রয়েছে।

সিসিটিভি ক্যামেরায় কাগজ সাঁটানোর প্রস্তুতি

ইঙ্গিতে সেটা দেখিয়ে দিলেন শাসকদলের ভোট ম্যানেজারদের। এরপর একজন একটা সাদা কাগজ নিয়ে এক পোলিং অফিসারের কাঁধ টপকে ক্যামেরার ওপর সেঁটে দিল সাদা কাগজ। সব সাদা মানেই পুরো শান্তিপূর্ণ ভোটের প্রতীক।

অন্যদিকে সাত সকালেই বাম প্রার্থী দিপু দাসের পরিবারের ভোট দিয়ে চলে গেছে অন্য লোক। আষাঢ় মাস নয় তবুও কলকাতা জুড়ে জগন্নাথ, সাদা পোশাকের জগন্নাথ। আরেক জায়গায় খোদ প্রার্থীর হাতে ধরা পড়েছে এক মহিলা ভোট লুটেরা, পুলিশ দিব্যি মজা দেখছে।

বুথের পর বুথ, কোথাও সিপিএম প্রার্থী কোথাও এজেন্টের মুখ ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে, বিজেপি প্রার্থীর শাড়ি ব্লাউজ ধরে টানাটানি। প্রতিবাদে তৃনমূল বিরোধী সমস্ত দল নিজের নিজের মত প্রতিবাদ করছে আর অমনি মেইনস্ট্রিম মিডিয়া পেয়ে গেছে মমতা ব্যানার্জী বর্ণিত ‘ কংগ্রেস সিপিএম বিজেপি’ জোটের ছবি। দিনভর সেটাই বড় করে দেখানো হচ্ছে, দেখুন এই হচ্ছে বিরোধীরা। মমতার বিরুদ্ধে ভেতরে ভেতরে এক। কত দূরদর্শী এই মিডিয়া? দিনভর উৎসবের মেজাজে ভোট লুট আর জগন্নাথ বেশধারী পুলিশের ভূমিকা এরা দেখতে পায়নি। যেটা দেখতে পেল সেটা হল ভোট লুটের বিরোধিতায় সব দল এক! মেইনস্ট্রিম মিডিয়া সত্যি ভদ্রলোক আর ভদ্রলোকের একটাই কথা, আগুন লাগুক, ডাকাতি হোক কিংবা ভোট লুট তার বিরুদ্ধে বিরোধীরা এক সুরে কথা বলতে পারেনা!

- Advertisement -
Latest news
Related news