Sunday, July 21, 2024

পাহাড় প্রমান প্রত্যাশার চাপ! মাধ্যমিক শুরুর ২৪ঘন্টা আগেই আত্মহত্যা মেধাবী ছাত্রের

The life of the rat race for only being a 'First' is gradually consuming the youth from childhood to adolescence. There is no one else in life, nothing, just being first. The pressure to be the first is so great that many give up the fight at the thought of the possibility. As Bishal Chowdhury quite. On Sunday, just before the secondary exams, The history book was still open in his bed. The 16-year-old boy probably began to think that history would not be good for him. According to Bishal's family and school, he was a very good student. A student of Auria Higher Secondary School of Katwa Police Station in East Burdwan scored 685 marks in test. In history, he got a little lower number, but that too 85!

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: প্রথম হওয়ার ইঁদুর দৌড়ের জীবন ক্রমশঃ গ্রাস করছে শৈশব থেকে কৈশোর ছুঁয়ে যৌবনকে। জীবনে আর কেউ নেই, কিছু নেই, শুধু আছে প্রথম হওয়া। এই প্রথম হওয়ার চাপটা এতটাই মারাত্মক যে সেই সম্ভবনা ভেবে ভেবেই লড়াইটা শেষ পর্যন্ত ছেড়ে দেয় অনেকেই। যেমনটা ছেড়ে দিল বিশাল চৌধুরী। রবিবার, মাধ্যমিক পরীক্ষার ঠিক আগের দিন আত্মহত্যা করেছে বিশাল। তখনও তার বিছানায় খোলা অবস্থায় ছিল ইতিহাস বইটি। ১৬ বছরের বিশাল বোধহয় ভাবতে শুরু করেছিল ইতিহাসটাই তার ভালো হবেনা। আর এই চাপেই সম্ভবতঃ আত্মহত্যা করল পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া থানার বিশাল।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

বিশালের পরিবার ও স্কুল জানিয়েছে, রীতিমতো মেধাবী ছাত্র ছিল সে। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া থানার আউড়িয়া উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের ছাত্র বিশাল টেস্ট পরীক্ষায় ৬৮৫ নম্বর পেয়েছিল। ইতিহাসে সে একটু কম নম্বর পেয়েছিল ঠিকই কিন্তু সেটাও ৮৫! কী এমন কম নম্বর? কিন্তু সেই ইতিহাস নিয়েই পড়েছিল সে যদিও সেই চাপ তার রয়েই গেছিল। এরপর রবিবার সকালে নিজের ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় বিশালের দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তখনও বিশালের বিছানায় খোলা ছিল ইতিহাস বই।

জানা গেছে একটি অপূর্ণ সাংসারিক চাপ নিয়েই বড় হওয়া বিশালের। বাবার সঙ্গে সম্পর্ক না থাকায় বিশাল মা চন্দ্রিকার সঙ্গে আউড়িয়া গ্রামে তার মামারবাড়িতে থাকত। চন্দ্রিকা পেশায় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। আউড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল বিশাল। মায়ের সমস্ত দুঃখ মুছিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখত সে। আর সেই জন্য খুব বড় কিছু হতে চাইত সে। দিনরাত বই-ই ছিল তার ধ্যানজ্ঞান। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে দোতলায় নিজের ঘরে পড়ছিল সে। আচমকা শব্দ শুনে তার মা দোতলায় যান। সেখানে জানালা দিয়ে ছেলেকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তিনি। এর পর তাঁর চিৎকারে জড়ো হন প্রতিবেশীরা। দরজা ভেঙে উদ্ধার করা হয় বিশালকে। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

বিশালের মামা রাহুলদেব দাঁয়ের কথায়, ‘‘ছোট থেকে বিশাল পড়াশোনায় খুব ভাল ছিল। নবম শ্রেণি থেকে প্রচুর পড়াশোনা করত ও। টেস্ট পরীক্ষায় ৬৮৫ নম্বর পেয়েছিল। সবসময় বই নিয়ে বসে থাকত। কিন্তু টেস্টে ইতিহাসে ৮৫ নম্বর পায়। তাই কয়েক দিন ধরেই খুব টেনশন করছিল ইতিহাস পরীক্ষা নিয়ে। ওর ভয় ছিল, ইতিহাসে মনের মতো নম্বর পাবে না।’’ তাঁর আরও বক্তব্য, ‘‘করোনা আবহে দীর্ঘ দিন বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে মেলামেশা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ওর। তার ফলে আমার ভাগ্নে চুপচাপ থাকত। পড়াশোনার বাইরে অন্য কিছু ভাবতও না।’’ সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। তার আগে বিশালের মতো মেধাবী ছাত্রের এমন মৃত্যুতে স্তম্ভিত তার স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকা থেকে এলাকাবাসী। মনস্তত্ত্ববিদরা বলেন, বড় হতে চাওয়াটা তখনই খুব চাপের হয়ে দাঁড়ায় যদি সেই প্রত্যাশা পাহাড় প্রমান হয়ে যায়।

- Advertisement -
Latest news
Related news