Sunday, July 14, 2024

Midnapore: বকেয়া ফেরৎ দেওয়ার নামে মুম্বাইয়ে ডেকে পশ্চিম মেদিনীপুরের যুবকের লাশ ফেরালো মামাশ্বশুর! সবং থানার দ্বারস্থ গ্রামবাসীরা

- Advertisement -spot_imgspot_img

শশাঙ্ক প্রধান: দীর্ঘ দু’বছর ধরে দর্জির মাস্টার হিসাবে কাজ করেছেন মুম্বাইতে, সম্পর্কিত মামা শ্বশুরের দোকানে। বকেয়া লক্ষাধিক টাকা। বারংবার তাগাদা দিয়েও টাকা না মেলায় রাগ করে চলে এসেছিলেন যুবক। এরপর সেই টাকা মিটিয়ে দেওয়ার জন্য ডাকা হয়। যুবক টাকা আনতে ফের মুম্বাই চলে যায়। কিন্তু এবার টাকা কিংবা বাড়ির ছেলে ফেরেনি পরিবর্তে ফিরেছে লাশ। বৃহস্পতিবার সেই লাশ এসে পৌঁছেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং থানার অন্তর্গত খড়িকা গ্রামে। ঘটনার খবর পেয়েই মৃত যুবকের বাড়িতে জড়ো হয়েছে গোটা গ্রাম। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে মৃত যুবকের নাম জিয়াউল মীর। ২৭ বছরের জিয়াউলের বৃদ্ধ মা, স্ত্রী ও এক দেড় বছরের পুত্র সন্তান রয়েছে। পরিবারের একমাত্র ভরসা ছিল জিয়াউল। এখন তাঁদের পরিবারের অবস্থা কি হবে! প্রশাসনের কাছে অভিযুক্তের কঠিন থেকে কঠিনতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা অভিযুক্তদেরর শাস্তির দাবিতে সবং থানায় জড়ো হয়ে পুলিশের কাছে দরবার করেছেন।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

ঘটনা সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘ দু’বছর সুদূর মুম্বাইয়ে ইন্দ্রনগর এলাকায় দর্জি মাস্টারের কাজ করতেন সবংয়ের খড়িকা গ্রামের ২৭ বছরের যুবক জিয়াউল মীর। ইন্দ্রনগরে দোকান রয়েছে তাঁরই এক নিকট আত্মীয় সবং এলাকারই বুড়ালের বাসিন্দা সৈয়দ হাফেজ মীরের। সম্পর্কে সে জিয়াউলের মামাশ্বশুর। জিয়াউলের দাদা জাহাঙ্গীর মীর জানিয়েছেন, বেশ কয়েক বছর ধরেই ভাই তার মামা শশুর সৈয়দ হাফেজ মীরের দোকানে কাজ করেছে। বাইশ দিন আগে ভাই বাড়ি ফিরে আসে। তখনই জানা যায় যে লক্ষাধিক টাকা ওই আত্মীয়ের কাছে বাকি রয়েছে। এক সঙ্গে বকেয়া না মেটালে সে কাজে যাবেনা বলেও জানিয়ে দেয়। এরপর ফোন আসে মামা শ্বশুরের কাছ থেকে। জানানো কাজে যোগ দিতে এবং প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় টাকা মিটিয়ে দেওয়ার।

দিন কয়েক আগে ফের সে মুম্বাইয়ের ফিরে যায়। কিন্তু গত মঙ্গলবার হঠাৎই মুম্বাই থেকে বাড়িতে ফোন করে জানানো হয় যে জিয়াউল কর্মক্ষেত্র থেকে নিখোঁজ হয়ে গেছে। অনেক চেষ্টা করেও তাঁর কোনও খোঁজ মিলছেনা। এরপরই তার খোঁজ খবর নেওয়ার চেষ্টা করেন পরিবারের সদস্যরা। সেখানেই তাঁদের আরও কয়েকজন আত্মীয়ের সূত্র মারফত জানতে পারেন, সেখানে কাজ ও টাকা-পয়সার ব্যাপার নিয়ে জিয়াউলের সাথে বচসা ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এরপর বারংবার অভিযুক্ত সৈয়দ হাফেজ মীর কে ফোন করা হলে কোনোও ভাবেই তার সাথে যোগাযোগ করা যায়নি। তারপরেই আজ বৃহস্পতিবার জিয়াউলের কফিনবন্দী দেহ এসে পৌঁছয় সবংয়ে গ্রামের বাড়িতে।

একটি সূত্র মারফৎ জানা গেছে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী জিয়াউলের মাথার পেছন দিকে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের অনুমান গণেশ পুজোর আগে মুম্বাইয়ে নতুন জামা-কাপড় বানানোর প্রচুর চাহিদা থাকে। জিয়াউল হঠাৎই বাড়ি চলে আসায় সেই চাহিদা মেটাতে পারছিলনা সৈয়দ হাফেজ। তাই বকেয়া টাকা মেটানোর নাম করে ডেকে পাঠানো হয় জিয়াউলকে। তারপর তাঁকে দিয়ে ফের কাজ করানো হতে থাকে। এরপর সে ফের বকেয়া টাকা চাইলে পরিকল্পিত ভাবেই খুন করা হয় তাঁকে। জিয়াউলের নিথর দেহ বাড়িতে এসে পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। ক্ষোভে ফুঁসছেন গ্রামবাসীরাও। দোষীর শাস্তির দাবিতে সবং থানায় গ্রামবাসীরা একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। পরে পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে।

- Advertisement -
Latest news
Related news