Sunday, July 14, 2024

Nandigram: ব্যর্থ কুনাল ঘোষও! হলদিয়ার পর কর্মী বিক্ষোভ নন্দীগ্রামে! পুলিশই সামলালো তৃণমূলের লড়াই

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: কেউ নেই, কেউই তৃনমূলকে সামলানোর জন্য শুধু পুলিশ ছাড়া। পুলিশ না থাকলে তৃনমূল যে তৃনমূলের কী করতে পারে তাই আজ দেখল নন্দীগ্রাম। রীতিমত হাতা গুটিয়ে শুরু হল ঠেলাঠেলি। মুখে অশ্রাব্য খিস্তি খেউড়। সেখ সুফিয়ান বনাম পীযূষ ভূঁইঞা গোষ্ঠীর লড়াই শুরু হয়ে গেল কুনাল ঘোষের সামনেই, নন্দীগ্রামের গোকুলনগর কর পল্লীর শহিদ স্মরন মঞ্চে তখন কুনাল ঘোষের দুই পাশে বসে দুই গোষ্ঠীর নেতা পীযূষ আর সুফিয়ান। মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে সুফিয়ান, বাপ্পাদিত্য গর্গরা চেষ্টা করছেন নিজের নিজের গোষ্ঠীকে শান্ত করার কিন্তু কে শোনে কার কথা। নন্দীগ্রামে মেঠো ভাষায় তখন একে অপরের গুষ্টির পিন্ডি চটকাতেই ব্যস্ত। ৮ই নভেম্বর হলদিয়ার সুটাহাটায় সভায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ট্রেইলার দেখেছিলেন কুনাল ঘোষ, তিনদিনের মাথায় নন্দীগ্রামে দেখে গেলেন পিকচারের আরও একটু দৃশ্য। সন্ধ্যায় হলদিয়া ফিরতে ফিরতে কুনাল ঘোষকে নিশ্চিত ভাবেই ভাবতে হয়েছে, ‘ ভাগ্যে পুলিশ ছিল সাথে!”

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

১০ই নভেম্বর, নন্দীগ্রাম আন্দোলন থেকে তৃনমূলের ডিভিডেন্ড পাবার দিন। তাই ফি বছর অন্যান্য কয়েকটা দিনের মত এদিনও শহিদ স্মরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে তৃনমূল। সামনে পঞ্চায়েত নির্বাচন তাই এ বছর স্পেশাল আয়োজন। মঞ্চে সদ্য নন্দীগ্রাম- হলদিয়ার দায়িত্ব প্রাপ্ত রাজ্য সাধারন সম্পাদক কুনাল ঘোষ। শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর নন্দীগ্রামের শহিদ ডিভিডেন্ড ভাগ হয়ে যাচ্ছে। বিকালে ওই ভাগ নেওয়ার জন্য শুভেন্দু অধিকারীও আসবেন তাই সকাল সকাল মাঠে নেমে পড়া। যদিও নেমেই বিপত্তি। ডিভিডেন্ড পাবার লড়াই শুরু হয়ে যায় সুফিয়ান আর পীযূষ গোষ্ঠীর মধ্যে। যেন অমৃত লাভের জন্য সুর অসুরের লড়াই। অমৃত মানে পঞ্চায়েতের টিকিট। দুয়ারে পঞ্চায়েত ভোট বলে কথা। আঞ্চলিক নেতাদের পর কুনাল ঘোষ মাইক্রোফোন হাতে তারস্বরে চেঁচালেন কিন্তু শুম্ভ নিশুম্ভের লড়াই থামাতে শেষ অবধি নামতে হল পুলিশকেই। কুনাল ঘোষ মঞ্চ থেকে নেমে এসে কথা বললেন বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে।

অবশেষে মুখ রক্ষা হল শুভেন্দু অধিকারী নামেই। কয়েকজন তৃনমূল কর্মী কায়দা করে কয়েকটা পোষ্টার লিখে হাজির হলেন, ‘শুভেন্দু অধিকারী গো ব্যাক।’ সভা ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটির বকলমে তৃনমূলের আর সেই সভায় শুভেন্দু অধিকারী নামে পোস্টার! তৃণমূলেই যা সম্ভব। এরপর শুভেন্দু অধিকারীকে গোকুলনগরে আসতে দেওয়া যাবেনা বলে ধর্না শুরু হল। সেখানেও গেলেন বেচারা কুনাল ঘোষ। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ঠেলা সামলাতে সেই ‘ বে আইনি’ দাবিতে কুনাল ঘোষকেও বসতে হল চল্লিশ মিনিট। বেআইনি কেননা পুলিশের অনুমতি নিয়েই বিকালে এখানে শুভেন্দুর কর্মসূচি। ফলে পুলিশেরই গরজ ছিল শুভেন্দুর কর্মসূচি নির্বিঘ্ন করার না’হলে শিরে সংক্রান্তি হাইকোর্ট।

শেষমেশ ধর্না নাটক শেষ করে নন্দীগ্রাম আন্দোলনের ডিভিডেন্ড নিদর্শন সুফিয়ানের ‘জাহাজ বাড়ি’তে মধ্যাহ্ন ভোজ কুনাল ঘোষের। সেটা বুঝতে পেরেই সেই ভোজ এড়িয়ে যান তৃনমূলের জেলা চেয়ারম্যান পীযূষ ভূঁইঞা। জানা গেছে সেখানে গিয়ে পীযূষ, বাপ্পাদিত্যদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন সুফিয়ান গোষ্ঠীর নেতা মহাদেব বাগ এবং অন্যান্যরা। কুনালের পরের অনুষ্ঠান ছিল হাজরাকাটায়। সেখানে দেখা গেল পীযূষ বা সুফিয়ান কেউই যাননি। স্থানীয় নেতাদের নিয়ে নম নম করে দিনের কর্মসূচি শেষ করলেন কুনাল ঘোষ আর নিশ্চিত ভাবেই অনুভব করে গেলেন গৃহদাহের ছ্যাঁকা। যদিও এটা তো সবেমাত্র শুরুয়াৎ, সামনের বছর পঞ্চায়েত নির্বাচন অবধি শুধুই ছ্যাঁকা নাকি আগুন নিয়ে কাটাতে হবে তাঁকে সেটাই লাখ টাকার প্রশ্ন।

মাত্র কিছুদিন পূজা করেই হলদিয়ার অস্থায়ী বাসায় ডেরা বেঁধেছেন কিন্তু শনি যেন কাটছেনা তৃনমূল সাধারন সম্পাদকের। শুরু থেকেই একের পর দলীয় কোন্দলের ধাক্কায় নাজেহাল তিনি। ঢিলেঢালা সংগঠন সাজানোর পরিবর্তে কুনাল ঘোষ অন্যদল ভাঙানোর যে আগুন লাগানোর চেষ্টা করেছিলেন সেই আগুন এখন তাঁর ল্যাজে। হলদিয়া থেকে নন্দীগ্রাম সেই আগুন ছড়াচ্ছে। এখন যা অবস্থা তাতে দলীয় সভা করতে হলে বড়সড় পুলিশি প্রস্তুতি নিয়ে রাখতেই হবে। এখন ভয় অন্যদল নয়, তৃনমূলের কাছে এখন ভয়ের নাম তৃনমূলই।

 

- Advertisement -
Latest news
Related news