Sunday, July 21, 2024

Ghatal: ১৮ মাসে বছর, ইঁদুরে খেল বিদ্যাসাগরের বাড়ি! পূর্তদপ্তরের ঘোষণায় ক্ষোভ স্থানীয়দের মধ্যে

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: সব দোষ ইঁদুরের কারন ইঁদুরের বাল্য বিবাহ হয়না, বিধবা বিয়ের প্রয়োজনও হয়না, ইঁদুরের বর্নপরিচয়ও নেই। স্বাভাবিক ভাবেই বিদ্যাসাগর কে ইঁদুর চেনেনা। ইঁদুর খেয়ে ফেলল বিদ্যাসাগরের বাড়ি! সোমবার বিকালে পশ্চিম মেদিনীপুরের বীরসিংহ গ্রামে হঠাৎই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে বিদ্যাসাগরের বাড়ি আর কেন সেই বাড়ি ভেঙে পড়ল তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এমনই তত্ত্ব হাজির করেছে পূর্ত দপ্তরের এক আধিকারিক। ১৫০ বছর আগে বাড়িটি তৈরি করেছিলেন বাংলার নবজাগরণের অন্যতম মনীষা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়। মাটির বাড়ি, সে যুগে যেমনটা চল ছিল। কিন্তু প্রশ্ন হল, বিদ্যাসাগরের বাড়ি ভেঙে পড়ায় পূর্ত দপ্তরকে এই ব্যাখ্যা দিতে হচ্ছে কেন? কারন, প্রায় ৩ বছর আগে বাড়িটি রক্ষা করার দায়িত্ব অর্পণ করা হয় পূর্ত দপ্তরকে। সরকার এই ভাবদ ২ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দও করে।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

২০১৯ সালে বিদ্যাসাগরের জন্মের দ্বিশতবর্ষ জন্মজয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠান শুরুকে কেন্দ্র করে বীরসিংহ গ্রামে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময়ই তিনি বিদ্যাসাগর মহাশয়ের বাড়িটিকে ‘হেরিটেজ বিল্ডিং’ বা ঐতিহ্য ভবন বলে করেন এবং বাড়িটি মেরামত সহ রক্ষণাবেক্ষনের জন্য পূর্তদপ্তরের হাতে সঅর্থ তুলে দেওয়া হয়। জানা গেছে পূর্ত দপ্তর আবার নিজে একাজ করেনি। তারা এটা একটি ঠিকাদারী সংস্থার হাতে তুলে দেয়। সেই সংস্থাই নাকি কাজ করছিল! কী কাজ করেছিল তারা জানা নেই, তাদের এই ধরনের কাজের অভিজ্ঞতা আদৌ আছে কিনা জানা নেই কিন্তু ঝড়, বৃষ্টি বা কোনও রকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াই বাড়িটির একাংশ ভেঙে পড়েছে।

বিদ্যাসাগরের জন্মের দু’শো বছর পূর্তিতে বীরসিংহকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলে বিদ্যাসাগরের সমস্ত স্মৃতিকে সংরক্ষণ করে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে বীরসিংহ গ্রামটিকে সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তৈরি হয়েছে বীরসিংহ ডেভেলপমেন্ট অথোরিটি। আগামী প্রজন্মের কাছে বাংলার নবজাগরণের এই নায়ককে স্মরণীয় করে রাখতে এই উদ্যোগ। তারই অন্যতম অংশ বাড়িটিকে সংরক্ষণ করা। বাংলার আবেগ সেই বাড়ি ভেঙে পড়ায় রাজ্য জুড়ে হইচই। মঙ্গলবার বাড়িটির ভেঙে পড়া অংশ পরিদর্শন করতে আসেন ঘাটালের মহকুমা শাসক তথা বীরসিংহ ডেভেলপমেন্ট অথোরিটির মেম্বার সেক্রেটারী সুমন বিশ্বাস, ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সুলক প্রামানিক, ঘাটালের ভিডিও সঞ্জীব দাস, ঘাটাল পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ প্রশান্ত রায় প্রমুখরা।

মঙ্গলবারই পূর্ত দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারেরা পরিদর্শন করতে আসেন বাড়িটি। স্থানীয় মানুষজন তাঁদের কাছে অভিযোগ করেন নিম্নমানের মালপত্র দিয়ে কাজ হচ্ছে,পরিকল্পনায় গলদ আছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে যান পূর্ত দফতরের ইঞ্জিনিয়ার। পূর্ত দফতরের এক আধিকারিক জানান, মালপত্রের কোন ত্রুটি ছিল না, ইঁদুরে মাটি গর্ত করে দেওয়ার ফলে এই ঘটনা। প্রশ্ন হল, মাটির বাড়িতে যে ইঁদুরের উৎপাত থাকে এটা তো সর্বজন বিদিত। প্রায় ৩ বছর সময় পাওয়া গেছিল বাড়িটি সংরক্ষনের ঘোষণার পর। তাহলে শুরুতেই ইঁদুর সংক্রান্ত বিষয়টি দেখা হলনা কেন? বাড়িটির সংরক্ষনের কাজ সম্পূর্ণ না হওয়া অবধি ইঁদুরেরা বাড়ির অংশের কোনও ক্ষতি করবেনা, পূর্তদপ্তরের সাথে ইঁদুরদের এমন কোনও কথাবার্তা হয়েছিল কী?

বীরসিংহ গ্রামের ভগবতী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদীপ কুমার পাঠক বলেন” এই কাজের সম্বন্ধে, আমরা কিছুই জানিনা, ঠিকাদারি সংস্থা তাদের কিছু জানায়নি, কিন্তু কাজে যে সমস্ত মালপত্র ব্যবহার করা হচ্ছে তা একেবারেই নিম্নমানের গ্রামের মানুষ তাদের অভিযোগ করেছিলেন। এই ধরনের ঘটনা একেবারেই দুঃখজনক। তিনি আরও বলেন বিদ্যাসাগর মহাশয় কে শ্রদ্ধা জানানোর জন্যই এই বাড়িটির সংরক্ষন। তা করতে গিয়ে বিদ্যাসাগরকে যেন অপমানিত না হতে হয় তা দেখুন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।”

- Advertisement -
Latest news
Related news