Sunday, July 21, 2024

Kharagpur: মোড়ল মানেনা গাঁ! কাজ না করায় উন্নয়নের আড়াই কোটি টাকা ফেরৎ খড়গপুর গ্রামপঞ্চায়েত থেকে

- Advertisement -spot_imgspot_img

উদয়ন সিনহা: গত আর্থিক বর্ষে ফেরৎ গেছে ১কোটি ২৩লক্ষ টাকা, চলতি বর্ষে ফেরৎ যাওয়ার মুখে আরও কোটি টাকার কাছাকাছি। মাত্র ১৪টি সংসদ এলাকায় ছোট বড় মিলিয়ে ২৫ টি গ্রাম। সেই হিসাব ধরলে একেকটি গ্রাম হারাচ্ছে ১০লক্ষ টাকা। টাকার ৬০ শতাংশই মজুরি হিসাবে উপার্জন করতে পারতেন ওই গ্রামগুলির বিপিএল তালিকা ভুক্ত মানুষ, সংখ্যালঘু এবং তফসিলি জাতি উপজাতিভুক্ত মানুষরা। বাকি ৪০শতাংশ টাকায় তৈরি হতে পারত রাস্তা, বাগান, পুকুর কিংবা জমি সমতলিকরনের মত গ্রামীন সম্পদ। সমস্যা হল যখন সরকার ‘টাকা দেয়না, টাকা দেয়না’ শ্লোগান তুলে রাজনৈতিক দলগুলো বঞ্চনায় বাজিমাত করতে চায় তখন খড়গপুর ২ ব্লকের সাঁকোয়া গ্রামপঞ্চায়েতের টাকা কাজ না করায় ফেরত চলে যায়। টানা ২বছর এমনটাই দেখে আসছেন মানুষজন।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

অবাক হওয়ার আরও কারন রয়েছে যে মাত্র কয়েক বছর আগে ২০১৬-১৭ সালে এই সাঁকোয়া গ্রাম পঞ্চায়েত সারা রাজ্যে উন্নয়নকে বাস্তবায়ন করার নিরীখে দ্বিতীয় পুরস্কার জিতে নিয়েছিল অর্থাৎ রাজ্যে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিল। মাত্র ৪বছরে সেই গ্রাম পঞ্চায়েতের এমন অধঃপতনের পেছনে কেউ কেউ রাজনৈতিক দক্ষতা অদক্ষতার প্রশ্ন তুলেছেন হয়ত সেটা কিছুটা সঠিক কিন্তু তার চেয়েও বড় অসুখ অন্তর্ঘাতের যা করে চলেছেন পঞ্চায়েতের সরকারি কর্মচারীরা। এই অভিযোগটা তুলেছেন পঞ্চায়েত পরিচালনাকারী বিজেপি প্রধান থেকে তৃনমূলের বিরোধী নেতাও। সঙ্গে অভিযোগ বিজেপির স্থানীয় ২টি গোষ্ঠীর বিরোধ এবং পঞ্চায়েত পরিচালনায় প্রধানকে সঠিকভাবে দলীয় গাইড না দেওয়ারও। কিন্তু এসবের কোনওটারই দরকার হতনা যদি গ্রাম পঞ্চায়েতের সচিব, নির্মাণ সহায়করা ঠিকঠাক কাজ করে যেতেন। খড়গপুর ২ পঞ্চায়েত সমিতির এক সদস্য জানিয়েছেন, ওই গ্রামপঞ্চায়েতে সরাকরি কর্মীদের অবস্থা অনেকটা, ‘আসি যাই বেতন পাই’ এর মতই।

বিজেপি পরিচালিত সাঁকোয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তাপসী জানা কার্যত অসহায় হয়ে বলছেন, “আমরা পরিকল্পনা করছি, সচিব এবং নির্মাণ সহায়কদের তা জমাও দিচ্ছি কিন্তু তাঁরা সেগুলি সরকারি হিসাব মত সেই কাজের খতিয়ান কম্পিউটাররে, সরকারের ওয়েবসাইটে লোড করেছেননা এবং এটা করছেন ইচ্ছাকৃত ভাবেই। এরফলে টাকা রিলিজ হচ্ছেনা।’ একই অভিযোগ গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের দলনেতা রঞ্জিত মন্ডলেরও। তিনি বলছেন, আমরা সঠিক সময়েই কাজের পরিকল্পনা পঞ্চায়েত অফিসের সরকারি আধিকারিকদের কাছে জমা দিয়েছি,কিন্ত ওনারা সময়ে সেগুলি বিডিও অফিসে না জমা দেওয়ার ফলেই এই বিপত্তি।”

খড়গপুর ২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা এই অঞ্চল থেকেই নির্বাচিত পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আনিসুর রহমান বলেছেন, ‘ খড়্গপুর ২নম্বর ব্লকের মোট ৯ টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে, যার মধ্যে আরও একটি বিজেপি পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। তারা সবাই ঠিকমতো কাজ করতে সক্ষম হলে সাঁকোয়া হবেনা কেন?’ সভাপতি জানান, এর আগেও আমি সরকারি কর্মী ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনায় বসেছি। কিন্তু কোথাও একটা জনপ্রতিনিধি বনাম সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বিরোধ থেকে যাচ্ছে যার মাশুল দিচ্ছে এই এলাকার গ্রাম ও গ্রামবাসীরা। বিষয়টি আমি বিডিওর নজরেও এনেছি।’

গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ৩৪ হাজার মানুষ বসবাস করেন যাঁর ৪৫% সংখ্যালঘু ও তফসিলি জাতি উপজাতির মানুষ। প্রায় ৭৫% বিপিএল বা দারিদ্রসীমার নীচে। ফেরত যাওয়া বা যেতে বসা এই টাকার ৬০% ই ১০০দিনের কাজ বাবদ সাধারণ মানুষের ঘরে আসতে পারত, মানুষের আয় বাড়তে পারত। কিন্তু যাঁরা মাস গেলে বেতন পান তাঁদের বোঝাবে কে? পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আরও জানিয়েছেন, ‘বিপদ এখানেই শেষ নয়, টেন্ডার হয়ে কাজ হয়ে গেছে এমনই ২ডজন কাজের ঠিকাদাররা টাকা পাবেননা, টাকা ফেরত চলে যাওয়ায়।’ সভাপতির এই উক্তিও প্রমান করে দেয় গ্রামপঞ্চায়েত পরিকল্পনা করেই টেন্ডার করেছিল কিন্তু সেই কাজও সরকারি ওয়েবসাইটে নথিভুক্ত করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে রাজি নয় সচিব কিংবা নির্মাণ সহায়ক।

- Advertisement -
Latest news
Related news