Sunday, July 21, 2024

পশ্চিম মেদিনীপুরে উদ্ধার স্বামী-স্ত্রীর মৃতদেহ! রহস্য খুঁজছে পুলিশ

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর থানা এলাকায় শোবার ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে স্বামী ও স্ত্রীর মৃতদেহ। মঙ্গলবার সাতসকালে নিজেদের বিছানা থেকে উদ্ধার হওয়া দম্পত্তির দেহকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। আপাততঃ দৃষ্টিতে ঘটনাটি কীটনাশক পান করে আত্মাহত্যা মনে হলেও পেছনে আলাদা কোনও রহস্য আছে কিনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে মৃতদেহ দুটি মোহন মন্ডল (৫২) এবং তাঁর স্ত্রী রিতা মন্ডলের (৪২)। ঘটনাটি ঘটেছে দাসপুর থানার নন্দনপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার রামচন্দ্রপুর গ্রামে। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। সেই তদন্ত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছে পুলিশ। আপাততঃ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

পুলিশ জানিয়েছে, রামচন্দ্রপুর গ্রামের মণ্ডল পরিবারের ওই স্বামী-স্ত্রী বাড়িতে একাই থাকতেন। তাঁদের একমাত্র সন্তান কর্মসূত্রে অন্য জেলায় থাকেন। মুর্শিদাবাদে ল্যাব টেকনিশিয়ান হিসাবে কর্মরত মন্ডল দম্পত্তির ছেলে মাত্র ২দিন আগেই বাড়ি ফিরছিল। ওই ছেলের নাম অরূপ মন্ডল। অরূপ জানাচ্ছেন,সোমবার রাতের খাবার একসাথেই খেয়েছিলেন বাবা মায়ের সাথে। খাবার সময় বাড়ির দোতালার ছাদ ঢালাই করা নিয়ে কিছু কথা কাটাকাটি হয়। অরূপের বক্তব্য বাড়ির ছাদ ঢালাইকে নিয়ে বাবা মায়ের সাথে মাঝে মধ্যেই ঝামেলা হয়। কালও হয়েছিল। এরপর অরূপ ঘুমাতে চলে যায়। আজ ভোরে উঠে সে বাবা মাকে ডাকতে গিয়ে দেখে দুজনেই নিথর হয়ে পড়ে রয়েছে। মুখে কীটনাশকের দাগ রয়েছে।

অরূপের বক্তব্য বাড়ি তৈরি করা নিয়ে বাবার গড়িমসি নিয়ে বিরক্ত ছিলেন তাঁর মা। মায়ের ধারণা বাবা উপার্জনের টাকা ঠিকঠাক ব্যবহার করছেনা বা অন্যত্র সরাচ্ছে বা খরচ করে ফেলছে। এই নিয়ে অশান্তি লেগেই থাকত। আমি দু’দিন আগে বাড়ি এসে মাকে বলেছিলাম ছাদ ঢালাই করার পয়সা আমি দেব। গতকাল বাবাকে পাঠিয়ে মিস্ত্রির সঙ্গে এই নিয়ে কথাবার্তাও বলিয়েছিলাম। তারপরও কেন এই ঘটনা ঘটল বুঝতেই পারছিনা। এভাবে বাবা মা এর এক সাথে মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না পাড়া প্রতিবেশীরাও ।

প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, একটি মৃতদেহ খাটে ও একটি মৃতদেহ মেঝেতে পড়েছিল। তমৃত্যুর পূর্বে বিষের যন্ত্রনায় ছটপট করেছেন এমন কোনও লক্ষণ নেই। মুখ দিয়ে গাঁজলা ওঠার নির্দশন নেই। তাঁদের জামা কাপড়, বিছানা ইত্যাদি অবিন্যস্ত ছিলনা। শুধুমাত্র মুখের উপরিভাগে বিষের নিদর্শন ছিল। বিষয়টি নিয়ে এখুনি কিছু বলতে রাজি নয় পুলিশ। আধিকারিকরা জানিয়েছেন, ময়মাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া অবধি কিছু বলা যাচ্ছেনা। শোকাহত সন্তানকেও এখুনি জিজ্ঞাসাবাদ করার মত জায়গা নেই। বিষয়টি নিয়ে তদন্তে নেমেছে দাসপুর পুলিশ।

- Advertisement -
Latest news
Related news