Sunday, July 21, 2024

Haldia: গ্রেফতার শ্যামল আদক ঘনিষ্ট হলদিয়ার প্রাক্তন তৃনমূল কাউন্সিলর ! আতঙ্ক পুরসভার অন্দরে

- Advertisement -spot_imgspot_img

নিজস্ব সংবাদদাতা: শেষ অবধি গ্রেফতারই করা হল হলদিয়া পুরসভার প্রাক্তন তৃনমূল কাউন্সিলার সত্যব্রত দাস কে। হলদিয়া পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের এই প্রাক্তন তৃনমূল কাউন্সিলর অবশ্য শেষের দিকে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ হলদিয়া পুরসভার প্রাক্তন পুর প্রধান বর্তমানে পলাতক শ্যামল আদক দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছিলেন এই সত্যব্রত দাস। শ্যামল জামানায় হলদিয়া পুরসভার টেন্ডার কমিটির সর্বেসর্বা ছিলেন এই সত্যব্রত এমনটাই দাবি পুলিশের।

আরো খবর আপডেট মোবাইলে পেতে ক্লিক করুন এখানে

পুলিশের আরও দাবি শ্যামল আদকের ডান হাত এই সত্যব্রতকে শিখন্ডি করেই শ্যামল একের পর এক দুর্নীতি ও জালিয়াতি করেছে, বেনামে নিজের ঠিকাদারি সংস্থাকে দিয়েই কাজ করিয়ে নিয়েছেন শ্যামল। গত ২৯ সেপ্টেম্বর শ্যামলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হবার পরই বাংলা ছাড়েন শ্যামল। পুলিশ সেই মামলার তদন্তে নেমে যে সমস্ত প্রাক্তন কাউন্সিলরদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে তাঁদের মধ্যে সর্বাগ্রে ছিল সত্যব্রত দাসের নাম। ১৩ অক্টোবর থেকে টানা তিন দিন ঘন্টার পর ঘন্টা জেরা করার পরও সন্তুষ্ট হয়নি পুলিশ। ১৫ অক্টোবর সত্যব্রতকে হলদিয়া না ছাড়ার নির্দেশ দেয় পুলিশ। তার ৪ দিনের মাথায় ১৯ অক্টোবর, বুধবার রাতে সত্যব্রতকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর পাওয়া গেছে।

সত্যব্রত দাসের গ্রেফতারে রীতিমত আতংক ছড়িয়েছে বেশ কয়েকজন প্রাক্তন কাউন্সিলরের মধ্যে বিশেষ করে যাঁরা শ্যামল আদক ঘনিষ্ঠ ছিলেন। আতঙ্কে কিছু ঠিকাদার ও পুর আধিকারিকরাও। কারন শ্যামল জমানায় বিভিন্ন টেন্ডার সংক্রান্ত প্রায় দু’হাজার ফাইল বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। টেন্ডার প্রক্রিয়া সংক্রান্ত সেই সব ফাইল খুঁটিয়ে দেখছেন শ্যামল আদক মামলায় ঘটিত পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বিভিন্ন প্রাক্তন কাউন্সিলর, প্রাক্তন চেয়ারম্যান, পুর কর্মী ও আধিকারিকদেরও।

যদিও পুলিশের বক্তব্য সত্যব্রত দাসের গ্রেফতারের সঙ্গে শ্যামল আদক মামলার কোনও যোগসূত্র নেই। সত্যব্রতকে গ্রেফতার করা হয়েছে ভিন্ন একটি মামলায় যেখানে তাঁর ১ নম্বর ওয়ার্ড একই প্রকল্পে ২টি ভিন্ন টেন্ডার দেখিয়ে পুরসভার তহবিল থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে সত্যব্রতর বিরুদ্ধে সুতাহাটা থানায় একটি অভিযোগও দায়ের করেছেন জনৈক কমলেশ চক্রবর্তী। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে।

যদিও পুরকর্মী ও আধিকারিকদের এবং একাংশ প্রাক্তন কাউন্সিলরদের দাবি পুলিশ যে ফাইল পুরসভা থেকে তুলে নিয়ে গেছে সে সমস্ত খুঁটিয়ে দেখে তা থেকে বেনিয়ম খুঁজে বের করেই পুলিশ মামলা দায়ের করাচ্ছে। না হলে এতদিন পরে এই মামলা দায়ের হল কেন? তাছাড়া এই মামলায় শুধু কাউন্সিলর কেন মামলা গড়ালে একে একে পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার, ফিন্যান্স অধিকারিক এমন কী স্বয়ং পুরসভার একজিকিউটভ অফিসার জড়িয়ে পড়তে পারেন। ফলে সত্যব্রত দাসের গ্রেফতারে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পুরসভার অন্দরে।

- Advertisement -
Latest news
Related news